ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
ঢাকা

menu

শ্বশুর-পুত্রবধূর শাসনে চলে কমার্স ব্যাংক পিএলসি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

শ্বশুর-পুত্রবধূর শাসনে চলে কমার্স ব্যাংক পিএলসি

ছবি সংগৃহীত

একসময় এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক পিএলসি এবার নতুন বিতর্কে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান ও তার পুত্রবধূ তানজিনা সুলতানাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্রভাবের এক অঘোষিত বলয়—এমন অভিযোগ ব্যাংকের ভেতর থেকেই। কর্মকর্তাদের দাবি, পদোন্নতি, বদলি এমনকি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও কার্যকর ভূমিকা রাখছেন চেয়ারম্যানের পুত্রবধূ। ফলে রাষ্ট্রীয় অংশীদারিত্ব থাকা ব্যাংকটি কার্যত ‘শ্বশুর-পুত্রবধূর শাসনে’ পরিচালিত হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

ব্যাংকটির একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পদোন্নতি এবং বদলিসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষের বাইরে থেকেও প্রভাব খাটানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর দিলকুশা শাখাকে কেন্দ্র করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনা ও তদবির পরিচালিত হয় এবং এসব বিষয়ে চেয়ারম্যানের পরিবারের একজন সদস্যের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে ব্যাংকের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে মো. আতাউর রহমানকে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তার অপছন্দের কর্মকর্তাদের বদলি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কিংবা পদত্যাগে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

এর আগে ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন দায়িত্ব ছাড়ার সময় গণমাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন যে, ব্যাংকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ ছিল না। পরিচালনা পর্ষদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের কারণে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে উঠেছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন।

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর দাবি, চেয়ারম্যানের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধার বাইরে কিছু বিশেষ সুবিধা ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পরও চেয়ারম্যানের নিয়মিত অফিস কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে চেয়ারম্যানের পুত্রবধূ তানজিনা সুলতানা (রিমা) ব্যাংকের সহকারী কর্মকর্তা (অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার) পদে নিয়োগ পান। নিয়োগের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন—এমন অভিযোগ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা তুলেছেন। তাদের দাবি, পদোন্নতি ও বদলির বিষয়ে আগ্রহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর একটি অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া গড়ে উঠেছে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে বিভিন্ন শাখা ও বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এসব বদলির পেছনে আনুষ্ঠানিক নীতিমালার বাইরে প্রভাব কাজ করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নতুন নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেও নানা ধরনের আলোচনা চলছে ব্যাংকের ভেতরে।

পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব অনেক বেড়েছে। কিছু পরিচালকও বিভিন্ন কারণে তার অবস্থানের বিপক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অবগত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হাসান মাহমুদও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, চেয়ারম্যানের পুত্রবধূ তানজিনা সুলতানা রিমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের কাছে তার মোবাইল নম্বরের উৎস সম্পর্কে জানতে চান। পরে আর কোনো মন্তব্য না করে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!