ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
ঢাকা

menu

‘ছাগলকাণ্ডে’র সেই মতিউরের দুর্নীতি মামলার বিচার শুরু

আওয়াজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

‘ছাগলকাণ্ডে’র সেই মতিউরের দুর্নীতি মামলার বিচার শুরু

ছবি সংগৃহীত

প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীর সোমবার এ আদেশ দেন। বিচারক অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়ে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেছেন বলে জানিয়েছেন দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম।

গেল ৫ জুলাই দুদকের পক্ষ থেকে মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করে শুনানি করেন মীর আহমেদ আলী সালাম। মামলা থেকে আসামির অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেছিলেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও বিডিআর বিদ্রোহ মামলার প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন ৷

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত ২১ জুলাই এ বিষয়ে আদেশের দিন রেখেছিলেন। পরে তা পিছিয়ে এ দিন ঠিক করা হয়।

সোমবার শুনানিতে মতিউর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়।

এ সময় তিনি দোষী না নির্দোষ জানতে চাইলে, মতিউর রহমান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন রাখেন।

এরপর মতিউর রহমানের জামিন চেয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও মো. বোরহান উদ্দিন ৷ দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক মামলা দায়ের করে। মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়।

তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক। এতে বলা হয়, মো. মতিউর রহমানের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ তথ্য দিয়ে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

“সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ আয়ে নিজ নামে গোপনসহ ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।”

তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

২০২৪ সালে কোরবানি ঈদের সময় সাদিক এগ্রো থেকে ইফাত নামের এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা দামের ছাগল কেনার ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায় ওই তরুণ এনবিআরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমানের ছেলে।

পরে মতিউরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!