সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে প্রস্তাবিত চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে চুক্তিটি কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রয়টার্সকে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে চূড়ান্ত হওয়া চুক্তিটি সোমবার কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে।
চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানির সুযোগ পাবে মার্কিন কোম্পানিগুলো। তবে চুক্তিটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
তিনি বলেন, সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলেই চুক্তিটি এগিয়ে যাবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের অবস্থান বদলায়নি।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব ও মুসলিম-প্রধান দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি। ২০২০ ও ২০২১ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের এ ধরনের চুক্তি হয়।
তবে সৌদি আরব এখনো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। ২০২৩ সালে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা অনেকটা এগিয়েছিল। কিন্তু ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
রিয়াদ এখন ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি অপরিবর্তনীয় পথ তৈরির দাবি জানিয়ে আসছে।
৩০ বছর মেয়াদি প্রস্তাবিত পারমাণবিক চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে এপি১০০০ ধরনের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির মূল্য কয়েক হাজার কোটি ডলার হতে পারে।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিংহাউস বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে। কোম্পানিটির মালিকানায় কানাডাভিত্তিক ক্যামেকো ও ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট রয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের দুই সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিটি ইতোমধ্যে কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বুধবার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।
কংগ্রেসের হাতে চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য ৯০টি অধিবেশন দিবস থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কংগ্রেস আপত্তি না জানালে চুক্তিটি কার্যকর হবে।
তবে কংগ্রেস চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্তে ভেটো দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন ছাড়া সেই ভেটো অকার্যকর করা সম্ভব হবে না।
চুক্তিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সমালোচনা রয়েছে। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ জানিয়েছেন, কারণ চুক্তিতে সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে স্পষ্টভাবে বিরত রাখার বিধান নেই।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য দুটি পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এ ব্যবস্থাকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সৌদি আরবের সঙ্গে করা চুক্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ব্যবস্থা রয়েছে।
ননপ্রলিফারেশন পলিসি এডুকেশন সেন্টারের প্রধান হেনরি সোকলস্কির মতে, চুক্তি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করে ট্রাম্প এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি করেছেন, যেখানে সৌদি আরব ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দিয়েও এবং পারমাণবিক বিস্তার রোধে আরও কঠোর শর্ত ছাড়াই চুক্তিটি কার্যকর করার সুযোগ পেতে পারে।
তিনি বলেন, আপনি যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ এবং ইসরায়েলের স্বীকৃতির বিষয়ে সত্যিই আন্তরিক হন, তাহলে এটি খুব একটা আদর্শ পরিস্থিতি নয়।

