অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে আধিপত্য বিস্তারের যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ গিয়েছিল, তার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন পেসার হাসান মাহমুদ।
দুই ম্যাচের সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে। ডারউইনে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরে সিরিজ ড্র করে সফরকারীরা।
হাসান বলেন, `ডারউইনে জয় পাওয়া থেকে শুরু করে ম্যাকাইতে তাদের কঠিন সময় দেওয়া এবং বোলিংয়ে আধিপত্য বিস্তার করা—অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে আমাদের স্বপ্ন ছিল, তাদের বিপক্ষে খেলব এবং আধিপত্য দেখাব। আমার মনে হয়, আমরা আমাদের লক্ষ্যের ৮০ শতাংশ পূরণ করতে পেরেছি।`
ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেওয়া হাসান বলেন, `অস্ট্রেলিয়ায় অনুশীলন শুরু করার সময় আমাদের চিন্তাভাবনা, অনুশীলনের প্রতি নিবেদন ও মনোযোগ ছিল নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে ঘিরে। আমি বলব, আমরা সেগুলো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পেরেছি এবং সব খেলোয়াড় নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।`
তিনি আরও বলেন, `আমরা এখনো আমাদের পরিশ্রমের ফল অনুভব করতে পারছি। আমরা সবাই যে লক্ষ্যের জন্য লড়াই করেছি, সেটি প্রায় অর্জন করতে পেরেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সিরিজটি ড্র হয়েছে, তবে এটি আমাদের জন্য বড় একটি অর্জন।`
অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে আরও বেশি খেলার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও ভালো করবে বলেও আশাবাদী হাসান।
তিনি বলেন,`আমরা যত বেশি এ ধরনের কন্ডিশনে খেলব, তত বেশি আধিপত্য বিস্তার করতে পারব। বড় দলগুলোর বিপক্ষে আরও বেশি খেলার সুযোগ পাব। আশা করি, ভবিষ্যতে আরও বেশি ম্যাচ জিতব এবং বিশ্ব ক্রিকেটে আরও বেশি আধিপত্য দেখাতে পারব।`
বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিটের সাফল্যের পেছনে নিখুঁত জায়গায় বল করার দক্ষতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন হাসান।
তিনি বলেন, `গত কয়েক বছর ধরে আমরা পেস বোলিং ইউনিট হিসেবে উন্নতির চেষ্টা করছি। অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে কন্ডিশন ও যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, সেগুলো নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। কোচ ও বিশ্লেষকের সঙ্গেও বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি।`
হাসান বলেন, `অস্ট্রেলিয়া অবশ্যই বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তাদের বিপক্ষে আমাদের পরিকল্পনা কী হবে, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর অনুশীলনে সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। নতুন বলে সঠিক জায়গায় বল করা, নতুন বল সুইং করানো এবং নির্দিষ্ট লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বোলিং করার বিষয়গুলোতে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।`
তিনি আরও বলেন, `আমাদের পেসাররা যেভাবে কাজ করেছে, তাদের নিবেদন ও মনোযোগ এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী যেভাবে এগিয়েছে, সেটি উন্নতিরই প্রমাণ। সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমার মনে হয়, ম্যাচেও আমরা সবাই নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আমাদের জয়ের পেছনে পেসারদের বড় অবদান ছিল। পেস বোলিং ইউনিট হিসেবে এই সিরিজ নিয়ে আমরা শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।`
স্টার্কের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছেন শরিফুল
এদিকে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে সাত উইকেট নেওয়া শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিরিজের শেষ ম্যাচের পর অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের কাছ থেকে কিছু পরামর্শ নিয়েছেন তিনি।
ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্ট শেষে স্টার্কের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল শরিফুলকে। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, `ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মূলত আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। তার কিছুটা সময় চেয়েছিলাম এবং তিনি রাজি হন। এরপর জানতে চেয়েছি, সিরিজের আগে তিনি কী ধরনের শারীরিক প্রস্তুতি নেন এবং কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন।`
স্টার্কের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শের বিষয়ে শরিফুল বলেন, `তিনি বলেছেন, তার বয়স এখন ৩৬ বছর হওয়ায় তার প্রস্তুতির ধরন আমাদের চেয়ে আলাদা। তবে তার কাছ থেকে বিষয়গুলো জানতে পেরেছি। একটি ম্যাচের পর কীভাবে তিনি নিজেকে ধরে রাখেন, সেটাও জানতে পেরেছি।`

