যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল এজেন্ডাগুলো দলের মূলধারার নেতাদের চিন্তায় ফেললেও এসব নীতির প্রতি ব্যাপক সমর্থন দেখা গেছে সাধারণ স্বতন্ত্র ভোটারদের। সম্প্রতি রয়টার্স/ইপসোসের একটি জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ বলছে, রাজনৈতিক সমীকরণে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখা স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশই ডেমোক্র্যাটদের এসব প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
চলতি বছরের প্রাথমিক নির্বাচনে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং বিলিয়নিয়ারদের ওপর নতুন কর আরোপের প্রস্তাব দিয়ে জয় পেয়েছেন আবদুল আল সাইয়েদের মতো উদীয়মান প্রগতিশীল প্রার্থীরা। রয়টার্সের খবর বলছে, তাদের এই উত্থান আগামী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়ে দলের বর্ষীয়ান নেতৃত্বকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত ওই জরিপে দেখা যায়, নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের প্রায় ৬৪ শতাংশ করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বিলিয়নিয়ারদের ওপর কর বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন মাত্র ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া ৬০ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পক্ষে। গত ২৯ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে এক হাজার ৯৭ জন নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারসহ মোট চার হাজার ৫০৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আল সাইয়েদ। গত তিনটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুটিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় পাওয়া মিশিগানে আল সাইয়েদের জন্য চ্যালেঞ্জটি ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত অন্যান্য এলাকার চেয়ে কঠিন।
নির্বাচনী কৌশলে প্রগতিশীলদের উত্থানকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন রিপাবলিকানরা। তারা ডেমোক্র্যাটদের চরমপন্থি বা নেতিবাচকভাবে ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সহসভাপতি মেগান রোমার সিনেট বিলুপ্ত করা এবং পেন্টাগনে অর্থায়ন বন্ধের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, রিপাবলিকান নেতারা সেটিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে প্রচার করছেন। আল সাইয়েদ ডিএসএর সদস্য না হলেও বার্নি স্যান্ডার্স, অ্যালেক্সান্ড্রিয়া ওকাসিও কোর্তেজ এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মতো হেভিওয়েট প্রগতিশীল নেতাদের সমর্থন পাচ্ছেন। মার্কিন রাজনীতি বিশ্লেষক জন ফিহেরির মতে, রাজনৈতিক এজেন্ডার চেয়ে ‘কমিউনিস্ট’ তকমাই আল সাইয়েদের মতো প্রার্থীদের ক্ষতির মূল কারণ হতে পারে। তারা প্রগতিশীলদের কাছে রোমাঞ্চকর হলেও মধ্যপন্থিদের জন্য ‘ভীতিকর’।
প্রগতিশীলতা বনাম ‘ম্যাগা’
জরিপে অংশ নেওয়া এক-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার মনে করেন, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কমিউনিস্ট ধারণার প্রভাব রয়েছে। নীতিগত সমর্থন থাকলেও এই ‘কমিউনিস্ট’ তকমা নিয়ে স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। ৪৩ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার জানিয়েছেন, ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে পরিচিত কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা তাদের কম। অন্যদিকে ২২ শতাংশ বলেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিচয়ের কাউকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তবে রিপাবলিকানদের জন্যও একই ধরনের সংকট রয়েছে। প্রায় ৫৯ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার জানিয়েছেন, তাদের জন্য ট্রাম্পের মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন বা ‘ম্যাগা’ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
কিছু ক্ষেত্রে রক্ষণশীল
বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার প্রস্তাবে স্বতন্ত্র ভোটাররা কিছুটা বিভক্ত। ৪৪ শতাংশ ভোটার এর পক্ষে এবং ৩১ শতাংশ বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন। এ ছাড়া কিছু কিছু রক্ষণশীল নীতিতেও স্বতন্ত্র ভোটারদের ঝোঁক দেখা গেছে। জরিপে ৪০ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার অভিবাসনের হার কমানোর পক্ষে এবং ৩০ শতাংশ এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এ ছাড়া ৪০ শতাংশ ব্যবসার ওপর সরকারি বিধিনিষেধ কমানো এবং ৪৭ শতাংশ বৈদেশিক সাহায্য কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

