ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাকা

menu

তিন বছরে রাস্তা নষ্ট হলে ঠিক করবেন ঠিকাদার

আওয়াজ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

তিন বছরে রাস্তা নষ্ট হলে ঠিক করবেন ঠিকাদার

ফাইল ফটো

যে কোনো ধরনের অবকাঠামো, স্থাপনা ও রাস্তাঘাট নির্মাণে টেকসই ও গুণগত মানকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। রাস্তা নির্মাণের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। একই সঙ্গে নির্মাণের পর তিন বছরের মধ্যে রাস্তা বা অন্য কোনো অবকাঠামোয় বড় ধরনের ত্রুটি বা ক্ষতি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকেই তা ঠিক করে দিতে হবে।

বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অবকাঠামোর গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে চলতি অর্থবছরের পঞ্চম একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। ১৩ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন যে কোনো ধরনের অবকাঠামো, স্থাপনা ও রাস্তাঘাট নির্মাণে টেকসই ও গুণগত মানকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনো রাস্তা নির্মাণের পর তিন বছরের মধ্যে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে ঠিকাদারকে সেটি পুনরায় ঠিক করে দিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি বা দায়বদ্ধতার শর্ত চুক্তিতে রাখা হবে। এটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয় নয়; নির্মাণের মানের কারণে বড় ধরনের ক্ষতি হলে ঠিকাদারকেই তার দায়িত্ব নিতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই বসতি এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া যে কোনো সড়ক নির্মাণের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ড্রেনেজ ছাড়া ভবিষ্যতে আর কোনো রাস্তা নির্মাণ করা যাবে না।

একনেকে অনুমোদিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পে এ নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগও রাখা হয়েছে। প্রকল্পে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কাজ শুরুর দুই বছরের মধ্যে বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য পয়োনিষ্কাশন শোধনাগার এবং এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। শুধু ড্রেন নির্মাণ করলেই হবে না, সেই ড্রেন দিয়ে পানি কোথায় যাবে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। নদীতে পানি যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পরিশোধন ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ কারণে পয়োনিষ্কাশন শোধনাগারের সঙ্গে পয়োনিষ্কাশন লাইনকে সমন্বিতভাবে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনসহ পুরো জেলার মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলায় সেই পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জোনে রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণের প্রকল্পেও টেকসই অবকাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সভায় প্রকল্প ব্যয় কমানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে গাড়ি কেনার ব্যবস্থা বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কনসালটেন্সি ব্যয়ও যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জনবল থাকার পরও অপ্রয়োজনীয়ভাবে কনসালটেন্সি ব্যয় বাড়ানো যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, একনেকে বাংলাদেশ রেলের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। ৯১৮ দশমিক ৫০ একর জমিতে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। সভায় রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক প্রস্তাবে এ ব্যবস্থা ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ব্যাটারি স্টোরেজ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে।

নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য সমবায়ের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ন্যূনতম পুঁজি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক নৌযান কেনা এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণের তৃতীয় সংশোধিত প্রকল্প, ফ্রান্সের প্যারিসে কেনা চ্যান্সারি ভবন সংস্কার ও আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ এবং থানচি-রিমাক্রি-মাদাক-লিক্রি সড়ক নির্মাণের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জয়পুরহাটের নন্দাহার ও হারাবতী নদী এবং নুনগোলা ও খারোয়া খাল পুনঃখননের ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি সভায় অবহিত করা হয়।

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!