ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাকা

menu

খুদে বার্তায় জনতা ব্যাংক কর্মকর্তাদের নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধের নির্দেশ, এমডি বললেন ‘ষড়যন্ত্র’

আওয়াজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১১:১৭ পিএম

খুদে বার্তায় জনতা ব্যাংক কর্মকর্তাদের নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধের নির্দেশ, এমডি বললেন ‘ষড়যন্ত্র’

ফাইল ফটো

পদোন্নতিতে বৈষম্য নিরসন, প্রয়োজনীয় অর্গানোগ্রাম অনুমোদন এবং সৃষ্ট পদে পদোন্নতির জট নিরসনের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণার পর জনতা ব্যাংক পিএলসিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কর্মসূচির মাত্র কয়েক দিন আগে সংগঠনের আহ্বায়কসহ তিন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি এবং এর পরপরই আগামী দুই সপ্তাহ কর্মকর্তাদের নৈমিত্তিক ছুটি অনুমোদন না দেওয়ার মৌখিক ও খুদে বার্তার নির্দেশনার অভিযোগ উঠেছে।

ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে চিকিৎসা, বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান, জমি রেজিস্ট্রেশনসহ জরুরি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ছুটি প্রয়োজন এমন কর্মকর্তারা বিপাকে পড়েছেন।

তবে নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনো লিখিত আদেশ জারি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশের উদ্যোগে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. মোতাহের হোসেনের ঘোষিত কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ঢাকায় এসে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ তৈরি এবং দীর্ঘদিনের পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধানে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

কিন্তু কর্মসূচির কয়েক দিন আগে মোতাহের হোসেনসহ তিন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়।

বদলি হওয়া অপর দুই কর্মকর্তা হলেন জনি সাহা ও আব্দুল কাইয়ুম। প্রকাশিত বদলি আদেশ অনুযায়ী, মো. মোতাহের হোসেনকে ভোলার দৌলতখান বাজার শাখায়, জনি সাহাকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার শাখায় এবং আব্দুল কাইয়ুমকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর কর্মদিবস শেষে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা।

কর্মসূচির ঠিক আগে সংগঠনের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার বদলি নিয়ে ব্যাংকের ভেতরেও প্রশ্ন উঠেছে। ঐক্য পরিষদের নেতাদের অভিযোগ, ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতেই এসব বদলি করা হয়েছে।

তবে বদলি আদেশে কর্মসূচি বা সংগঠনের কার্যক্রমের কোনো উল্লেখ নেই। বদলির সঙ্গে ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দেয়নি।

তিন কর্মকর্তার বদলির পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধের অভিযোগ।

একাধিক কর্মকর্তার দাবি, আগামী দুই সপ্তাহ কোনো কর্মকর্তার নৈমিত্তিক ছুটি অনুমোদন না দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের কেউ কেউ খুদে বার্তাও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আন্দোলন বা সাংগঠনিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না থাকা সাধারণ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও যদি একই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়, তাহলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনতা ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, চিকিৎসা, বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা জমি রেজিস্ট্রেশনের মতো অনেক কাজ আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। এসব প্রয়োজনে নৈমিত্তিক ছুটি প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু লিখিত প্রশাসনিক আদেশ ছাড়া সবার ছুটি একসঙ্গে বন্ধ রাখার নির্দেশনা কতটা বিধিসম্মত, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

তাদের প্রশ্ন, কোনো নির্দিষ্ট লিখিত আদেশ ছাড়া মৌখিক বা খুদে বার্তার মাধ্যমে সব কর্মকর্তার নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধ রাখা যায় কি না এবং এ সিদ্ধান্তের বিধিবদ্ধ ভিত্তিই বা কী।

সরকারি চাকরিতে ছুটি ও উপস্থিতি-সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন বিধিমালা ও প্রশাসনিক নির্দেশনা রয়েছে। তবে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আগামী দুই সপ্তাহ নৈমিত্তিক ছুটি একযোগে বন্ধ রাখার কোনো নির্দিষ্ট লিখিত আদেশ বা বিধান এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, পদোন্নতির দাবিতে কর্মকর্তাদের কর্মসূচি ও সংগঠনের তৎপরতাকে ভিন্নভাবে দেখছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মজিবর রহমান কালবেলাকে বলেন, এটি জনতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে ‘গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’।

তার দাবি, কয়েকজন কর্মকর্তা পদোন্নতির নামে ব্যাংকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। এ বিষয়ে একটি ব্যাংক হিসাবেরও সন্ধান পাওয়ার কথা জানান তিনি।

এমডি বলেন, অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।

তবে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য, প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি ও অনুমোদন এবং সৃষ্ট পদে পদোন্নতির জট রয়ে গেছে। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের দাবি জানিয়ে আসছে ঐক্য পরিষদ।

ঐক্য পরিষদের নেতাদের আরও অভিযোগ, ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি বিভাগের পক্ষ থেকে ফোন করে সতর্ক করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এটিকে চাপ প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন।

তবে এসব ফোন বা কথিত হুমকির অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পদোন্নতির দাবিতে নেতৃত্বে থাকা তিন কর্মকর্তার বদলি এবং নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধের অভিযোগে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা বাড়লেও ঐক্য পরিষদ বলছে, তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ব্যক্তিগত বিরোধে যেতে চায় না।

সংগঠনটির নেতাদের ভাষ্য, কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, অর্গানোগ্রাম ও পদায়ন-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো স্বচ্ছ, নীতিমালাভিত্তিক ও প্রয়োজনের আলোকে সমাধান করাই তাদের লক্ষ্য। এ জন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিও শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পালন করা হবে।

কর্মসূচির আগে তিন কর্মকর্তার বদলি, নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধের কথিত নির্দেশনা এবং কর্মকর্তাদের ফোন করে কর্মসূচি থেকে বিরত রাখার অভিযোগ মিলিয়ে জনতা ব্যাংকের ভেতরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি যদি সত্যিই নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এর লিখিত আদেশ কোথায়, কোন বিধানের ভিত্তিতে এবং কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

কারণ, কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সাধারণ কর্মকর্তাদের স্বাভাবিক ছুটি গ্রহণের সুযোগ সীমিত করা হলে তার প্রশাসনিক ভিত্তি ও প্রয়োগের কারণ স্পষ্ট থাকা জরুরি।

এখন পর্যন্ত বদলি ও ছুটি বন্ধের অভিযোগের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্রের কোনো লিখিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই তিন কর্মকর্তার বদলি বা নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট নয়।

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!