ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাকা

menu

ব্যাংক বাঁচাতে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই

আওয়াজ ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১২:১৮ এএম

ব্যাংক বাঁচাতে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বর্তমানে খেলাপি ঋণ, ঋণ আদায়ে দুর্বলতা, মূলধনসংক্রান্ত চাপ, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি ও সুশাসনের নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এমন পরিস্থিতিতে এসব ব্যাংককে আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু জ্যেষ্ঠতা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় বিবেচনা করলে চলবে না। প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা, অতীত কর্মদক্ষতা, সততা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও জবাবদিহির মানসিকতা—সবকিছুর সমন্বিত মূল্যায়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাবের সুযোগ কমিয়ে যোগ্যতাভিত্তিক নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, ব্যাংকের সংকট মোকাবিলা করে প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। ব্যক্তিগত পরিচয়, প্রভাব কিংবা অন্য কোনো অনানুষ্ঠানিক বিবেচনার ভিত্তিতে নয়; বরং প্রমাণিত কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অতীত ভূমিকার ভিত্তিতে শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন করা উচিত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বর্তমান বাস্তবতায় একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। খেলাপি ঋণ আদায়, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, আমানতকারীর আস্থা এবং ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই শীর্ষ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এমডি নিয়োগে ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়তে পারে।

এ কারণে এমডি নিয়োগে প্রযোজ্য নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ এবং প্রার্থীদের বিষয়ে যুক্তিসংগত ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা অনিয়মের তথ্য থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই করার পাশাপাশি অভিযোগের কারণে যোগ্য প্রার্থীর ন্যায্য সুযোগ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এসব ব্যাংক জনগণের আমানত, সরকারি সম্পদ এবং জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে এমডি নিয়োগকে শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ব্যাংকের সুশাসন, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং বৃহত্তর জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘদিনের আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা থেকে বের করে আনতে হলে নেতৃত্বের মান উন্নয়নের পাশাপাশি যোগ্য কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। যারা কঠিন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন এবং ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে সক্ষম—শীর্ষ পদে তাদেরই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

তাদের মতে, ব্যাংক বাঁচাতে শুধু মূলধন জোগান কিংবা নতুন নীতিমালা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব, কার্যকর তদারকি এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও আদায়, ঋণের মান যাচাই, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করতে যোগ্য নেতৃত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা আর্থিক সংশ্লিষ্টতার পরিবর্তে সততা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যাংকের স্বার্থে যোগ্য কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান বিবেচনা।
 

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!