ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাকা

menu

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি

‘কালকে ৫০০ দিয়ে ঢাকায় আসছিলাম, এখন ১০০ টাকা বেশি ভাড়া নিল’

ইফতেখার আলম

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

‘কালকে ৫০০ দিয়ে ঢাকায় আসছিলাম, এখন ১০০ টাকা বেশি ভাড়া নিল’

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া এসি, নন–এসি প্রায় সব বাসে বাড়তি ভাড়া নিতে দেখা যায়। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘কালকে (রোববার) ৫০০ টাকা দিয়ে ঢাকায় আসছিলাম। আর এক দিন পর এখন ১০০ টাকা বেশি ভাড়া নিল। ৬০০ টাকায় টিকিট কাটতে হলো। কদিন আগেও একবার ভাড়া বাড়ছিল। এখন আবার বাড়ায় দিল।’

কথাগুলো বলছিলেন মো. রমজান। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। ঈগল পরিবহনের একটি বাসে টিকিট কেটেছেন তিনি। ঢাকা থেকে যাবেন মাগুরায়।

বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে এই যাত্রী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘গাড়ির লোকেরা এর চেয়ে কম ভাড়া নেবে না। সরকার তেলের দাম বাড়াইছে। তাই তারাও ভাড়া বাড়াইছে। চাপটা বাড়ল আমাদের।’

আজ গাবতলী বাস টার্মিনালের কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনাল ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন রুটের বাসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এসি, নন–এসি প্রায় সব বাসেই বাড়তি টাকায় টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

অরিন পরিবহনের একটি বাসে টিকিট কেটেছেন মো. রিয়াদুর রহমান। যাবেন রংপুরে। জানতে চাইলে আওয়াজ নিউজে বলেন, ঢাকায় থাকেন। ব্যবসার কাজে প্রায়ই রংপুরে যাতায়াত করতে হয়। কয়েক দিন আগেও ৮০০ টাকায় টিকিট কেটে যাতায়াত করেছেন। আজকে ৯০০ টাকায় টিকিট কিনতে হয়েছে। রিয়াদুর রহমান বলেন, ‘অনেক বাসে আরও বেশি ভাড়া চায়। দামাদামি করে অরিনে টিকিট কেটেছি।’

বাড়তি ভাড়া আদায় করলেও বিভিন্ন বাস কোম্পানির কর্মচারীরা সেটা স্বীকার করতে চাইছেন না। পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসের সহকারী মো. ইলিয়াস বলেন, ‘তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পর বাড়তি ভাড়া এখনো নেওয়া হচ্ছে না। সরকার নতুন চার্ট (তালিকা) দিলেই আমরা বাড়তি ভাড়া নেওয়া শুরু করব।’

সূর্যমুখী পরিবহনের সহকারী ব্যবস্থাপক ওয়াদুদ হোসেন টার্মিনালে দাঁড়িয়ে কয়েকটি রুটের বাসের টিকিট বিক্রি করছিলেন। জানতে চাইলে তিনি জানান, ফরিপুর, বরিশাল, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ীসহ সব রুটে ৫০ টাকা করে বেশি ভাড়া রাখা হচ্ছে। ওয়াদুদ বলেন, ‘আমাদের কিছু করার নেই। প্রতি ট্রিপে ৪ হাজার টাকার বেশি খরচ বেড়েছে । এ টাকা কোথা থেকে জোগাড় করব।’ সরকার নতুন তালিকা দিলে সেই অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হবে বলেও জানান ওয়াদুদ।

গতকাল রোববার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল রাতে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা ও কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে। গত রাত থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পরিবহন যাত্রীদের কাছে বেশি টাকায় টিকিট বিক্রি করছে। দূরপাল্লার পাশাপাশি রাজধানীর ভেতরেও বিভিন্ন রুটের বেশ কিছু গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

বাস শ্রমিকেরা বলছেন, যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে রাজি না। আজ সকালে সাভার পরিবহনের একটি বাসের সহকারী মো. হালিম বলেন, তেলের দাম বাড়াইছে। কিন্তু আমরা এখনো বাড়তি ভাড়া নিতে পারছি না।

ভাড়ার উদাহরণ টেনে হালিম বলেন, ‘গাবতলী থেকে গুলিস্তানের ভাড়া ৩৫ টাকা। কিন্তু যাত্রীরা বেশি ভাড়া দিতে চাইছে না। সবাই নতুন চার্ট (ভাড়ার তালিকা) চায়। কিন্তু আমাদের তো এভাবে পোষাচ্ছে না।’

বাড়তি ভাড়া আদায় প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জি আর শহীদ আওয়াজ নিউজে বলেন, আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। বিআরটিএ কিংবা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে ভাড়ার নতুন তালিকা ঠিক করা হবে।

 

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!