ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাকা

menu

এক্সিম ব্যাংকের ৭০ গোডাউনগার্ড ও ইন্সেপেক্টরের মানবেতর জীবনযাপন

আওয়াজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

এক্সিম ব্যাংকের ৭০ গোডাউনগার্ড ও ইন্সেপেক্টরের মানবেতর জীবনযাপন

দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেও চাকরি স্থায়ী হয়নি। মাসে বেতন পান মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই বেতন একাধিক কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়। গত পাঁচ বছর ধরে বেতনও বাড়েনি। ফলে বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে এক্সিম ব্যাংক পিএলসির গোডাউনগার্ড ও গোডাউন ইন্সপেক্টরদের।

ব্যাংকের সম্পদ ও গোডাউনের নিরাপত্তায় বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করে আসা এসব কর্মীর মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৭০ জন কর্মরত রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের চাকরি, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ব পালনের পরও স্থায়ীকরণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শুধু কর্মীরাই নন, তাদের পরিবারের সদস্যরাও অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী কর্মীদের দাবি, তাদের অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় এক্সিম ব্যাংকের কাজে পার করে দিলেও তারা এখনো অস্থায়ী কর্মী হিসেবেই রয়ে গেছেন। চাকরির মেয়াদ ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত গড়ানোর পরও স্থায়ীকরণ না হওয়াকে তারা নজিরবিহীন বঞ্চনা হিসেবে দেখছেন। কর্মীরা জানান, ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও গোডাউনগার্ড ও ইন্সপেক্টরদের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। অথচ তুলনামূলকভাবে কম বেতনে তারা ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ পাহারা ও তদারকির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তাদের অভিযোগ, মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতন দিয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর বেতন নিয়মিত একবারে না পেয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েক দফায় নিতে হচ্ছে। গত পাঁচ বছরেও বেতন বাড়েনি। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাদের আয় সমন্বয় হয়নি।

কর্মীদের ভাষ্য, এরই মধ্যে কিছু কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যারা চাকরিতে রয়েছেন, তারাও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন। দীর্ঘ সময় একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পরও চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

এক্সিম ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার পর দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান হবে—এমন প্রত্যাশা করেছিলেন কর্মীরা। কিন্তু তাদের দাবি, একীভূতকরণের পরও বিষয়টির দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

কর্মীরা জানান, সমস্যা সমাধানের আশায় তারা বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি সাবেক অর্থ উপদেষ্টার কাছেও তারা আবেদন জানিয়েছেন বলে দাবি করেন।

বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তারা। তবে এত জায়গায় আবেদন-নিবেদন করেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান না পাওয়ায় হতাশা আরও বেড়েছে। কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কম বেতনে কাজ করার পাশাপাশি চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় তাদের জীবন কার্যত থমকে গেছে। সন্তানদের লেখাপড়া, পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করছেন না। দীর্ঘদিনের চাকরি ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে চাকরি স্থায়ী করা এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো নির্ধারণই তাদের মূল দাবি।

ভুক্তভোগীরা বলেন, বছরের পর বছর ব্যাংকের সম্পদ রক্ষায় দায়িত্ব পালন করার পরও যদি তাদের চাকরির নিশ্চয়তা না থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের কোথায় দাঁড়াতে হবে—তা নিয়ে তারা চরম উদ্বিগ্ন। একদিকে বয়স বাড়ছে, অন্যদিকে নতুন চাকরির সুযোগও কমে যাচ্ছে। ফলে বর্তমান চাকরিটিই তাদের পরিবার-পরিজনের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন।

এ অবস্থায় এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ চান তারা। চাকরির দীর্ঘ মেয়াদ এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে অবিলম্বে ৭০ জন কর্মীর চাকরি স্থায়ী করার পাশাপাশি বেতন পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের আশা, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিষয়টি এবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং ৭০টি পরিবারকে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি করবে।এবিষয়ে এক্সমি ব্যাংকসহ একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান সিকদার কালবেলাকে বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার জানা নেই।‘ এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান কালবেলাকে বলেন, এটা সম্পূর্ণভাবে ব্যাংকের অভ্যান্তরীণ বিষয়। এনিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। যদি তারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত হন তাহলে সংক্ষুব্ধ হলে তারা আইনের আম্রয় নিতে পারেন।

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!