সোনালী ব্যাংক পিএলসির কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর শাখার ক্যাশ অফিসার ফৌজিয়া হককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনায় প্রকাশ্যে একজন ব্যাংকারকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত ও মানসিকভাবে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার সংগঠনের আহ্বায়ক মো. মোতাহের হোসেন এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ধরনের অনিয়ম, গ্রাহকের অর্থের অসঙ্গতি কিংবা দায়িত্বে অবহেলাকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ সমর্থন করে না। তবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত করতে হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংগঠনটির দাবি, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ লাখ টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৫০০ টাকা কম থাকার বিষয়টি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি জানা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অতিরিক্ত গ্রাহকচাপের মধ্যে ভুলবশত এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
এ অবস্থায় ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ, ক্যাশ হিসাব, লেনদেনের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারের পেশাগত ও সামাজিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ বলেছে, কোনো অভিযোগের তদন্ত করা এবং একজন ব্যাংকারকে জনসমক্ষে হেনস্থা করা এক বিষয় নয়। সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রতি সংগঠনটির পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রিত বা সংবেদনশীল এলাকায় অনুমতিহীন প্রবেশ, কর্মরত ব্যাংকারের কাজে হস্তক্ষেপ কিংবা অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণের অবাধ অধিকার দেয় না।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক কী অনুমতিতে ব্যাংকে প্রবেশ করেছেন এবং ভিডিও ধারণের অনুমোদন ছিল কি না, প্রয়োজন হলে এসব বিষয়ও যাচাই করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. মোতাহের হোসেন বলেন, ‘অনিয়মের বিচার হোক, কিন্তু ব্যাংকারের হেনস্থা নয়। অভিযোগের তদন্ত হোক এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।’
সংগঠনটির পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

