সেই নাহিদের হাত ধরেই আসল সাফল্য। নিজের দ্বিতীয় ওভারে তিনি ভাঙলেন পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। নাহিদের অফস্টাম্পের বাইরের বাউন্সার আত্মবিশ্বাস নিয়ে শট খেলেছিলেন ফজল আব্দুল্লাহ। কিন্তু ঠিকঠাক বলটা ফাঁকে খেলতে পারেননি। বল যায় গালিতে।
নিচু হয়ে আসা ক্যাচ দারুণভাবে লুফে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২৮ বলে ৬ রান করে ফেরেন ফজল। পাকিস্তান হারাল প্রথম উইকেট। নতুন ব্যাটসম্যান শান মাসুদ।
মঙ্গলবার সকালের সেশনে প্রথম স্পেলে ৩ ওভার বোলিং করলেন তাসকিন আহমেদ। আগের দিন করেছিলেন ১ ওভার। নতুন বলে তেমন ধার ছিল না তার বোলিংয়ে। নবম ওভারে নাহিদ রানাকে বোলিংয়ে এনেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
বেশ সতর্ক ব্যাটিং করছে পাকিস্তান। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলারদের কোনো সুযোগ দেননি আজান ও ফজল। বোলিংয়ে উজ্জ্বল দিনের অপেক্ষা
বাংলাদেশের বোলিং এখন শক্তির আরেক নাম। পেসার কিংবা স্পিনাররা যারাই আক্রমণে আসেন প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে উঠেন। সুযোগ তৈরি করেন, ধারাবাহিক উইকেট তুলে নেন।
আজ মঙ্গলবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টের চতুর্থ দিনে তেমনই একটি দিনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।
পাকিস্তানকে বাংলাদেশ ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়েছে। তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে পাকিস্তান ২ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছিল। এক পাশে তাসকিন আহমেদ ও আরেক পাশে শরিফুল ইসলাম আক্রমণে আসেন। কোনো রান নিতে পারেননি পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজান আজওয়াইজ ও আব্দুল্লাহ ফজল। দুজনকে আজ নতুন করে লড়াই শুরু করতে হবে।
ইতিহাস পাকিস্তানের পক্ষে নেই
সিরিজ বাঁচাতে হলে পাকিস্তানকে সিলেট টেস্ট জিততেই হবে। আর ড্রয়ের আশা করলে ৬ সেশন ব্যাটিং করতে হবে নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজদের সামনে। পাকিস্তান কোন পথে যাবে? যেই পথেই যাক, এই টেস্ট জিততে পাকিস্তানকে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হবে।
তবে ইতিহাস পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলছে না। টেস্টে পাকিস্তানের চারশর বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। ৪৩৭ রান করতে পারলে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখবে পাকিস্তান। কারণ, টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এখনো ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে।
২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৪১৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ইতিহাস গড়েছিল ক্যারিবীয়রা। এরপর আর কেউ সেই রেকর্ড ভাঙতে পারেনি। বাংলাদেশ ১০ উইকেট নিতে পারলে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করবে। যেই কাজটা দুই বছর আগে রাওয়ালপিন্ডিতে করেছে বাংলাদেশ।

