ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ঢাকা

menu

নারী সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ

হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশনে ঋতুপর্ণারা

আওয়াজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০১:০২ পিএম

হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশনে ঋতুপর্ণারা

ছবি সংগৃহীত

স্বপ্নটা আকাশচুম্বী। টানা তিনবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরার আশা। সেই লক্ষ্য পূরণের মিশনে এখন ভারতের গোয়ায় ঋতুপর্ণা চাকমা-মারিয়া মান্ডারা। বাংলাদেশের মেয়েরা যখন হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন দেখছে, তখন স্বাগতিক ভারত নামছে নিজেদের হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত নারী সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের অষ্টম আসর শুরু হচ্ছে আজ। উদ্বোধনী দিনে অবশ্য বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নামছে না। ২৮ মে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে পিটার বাটলারের দল। সোমবার গোয়ায় উদ্বোধনী দিনে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৫টায় ছয়বারের ফাইনালিস্ট নেপাল খেলবে ভুটানের বিপক্ষে। রাত ৮টায় স্বাগতিক ভারতের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ।

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশ প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০২২ সালে। সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে সেই সাফ জয়ের পর ২০২৪ সালেও ট্রফি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিল লাল-সবুজের কন্যারা। গত আসরেও অধিনায়ক ছিলেন সাবিনা। কিন্তু হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনে থাকা বাংলাদেশ দলে এবার অধিনায়ক সাবিনাই শুধু নেই, মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণা রানী সরকারের মতো বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নেই। এবার তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া দল নিয়ে লক্ষ্য পূরণের আশা কোচ বাটলারের। এবার সাফের আগে থাইল্যান্ডে দুই সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্প করে বাংলাদেশ। স্থানীয় ক্লাবের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। এই প্রস্তুতি নিয়েই ভারতে সাফ খেলতে গেছে মেয়েরা। বড় কোনো দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে না পারলেও শিরোপা ধরে রাখার আশা বাটলারের। গতকাল গোয়ায় টুর্নামেন্টপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘থাইল্যান্ডে বেশ ভালোভাবেই কেটেছে এবং আমরা এখানে আমাদের শিরোপা ধরে রাখার দিকে তাকিয়ে আছি।’

মেয়েদের সাফে টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। তাদের সেই রেকর্ডের পেছনে ছুটছে বাংলাদেশ। আপাতত হ্যাটট্রিক শিরোপায় চোখ রাখা বাটলার অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাইছেন না, ‘ইতিহাসের পাতায় কী ঘটেছে, তা নিয়ে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে বলব, ইতিহাস অতীত হয়ে গেছে। আমরা জানি আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছি। আমাদের দলে কিছু নতুন ও তরুণ খেলোয়াড় এসেছে। আপনারা জানেন, আমি মারিয়াকে দলে নিয়ে এসেছি এবং তাকে অধিনায়ক করেছি। সে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দলকে নেতৃত্ব দেবে। এবং আমার সত্যিই মনে হয়, এটি খেলোয়াড়দের জন্য... হ্যাঁ, নিজেদের প্রমাণ করার একটি দারুণ সুযোগ, তবে এর চেয়েও বড় কথা, আপনারা জানেন, ইতিহাস তৈরি করার সুযোগ।’

নিজ আঙিনায় টুর্নামেন্ট বলে এবার ভারত অন্যতম ফেভারিট দল। তাদেরকে সেরা মেনেই বাটলার রেফারিং নিয়েও নিজের শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন, ‘আপনাকে প্রতিটি দলকে তাদের নিজস্ব যোগ্যতা অনুযায়ী আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। অবশ্যই ভারত একটি শক্তিশালী দল, তাদের ভালো খেলোয়াড় আছে। তারা বেশ গোছানো থাকবে, তা ছাড়া তারা নিজেদের ঘরের মাঠে খেলছে। আশা করি, রেফারিরা নিরপেক্ষ থাকবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমি ভারতকে যেভাবে দেখি, মালদ্বীপকেও একইভাবে দেখি। উভয় দলকেই সম্মান করি। এটি আমাদের সব প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমার সত্যিই মনে হয় আমাদের শুধু নিজেদের গেম প্ল্যান ঠিকঠাক সাজাতে হবে। এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন আমরা গোছানো থাকি এবং আমাদের গেম প্ল্যানটি যতটা সম্ভব পেশাদার ও দক্ষ উপায়ে মাঠে প্রয়োগ করতে পারি।’

এশিয়ান কাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আফঈদা খন্দকার। বাজে ফর্মের কারণে এ ডিফেন্ডার নেতৃত্ব হারিয়েছেন। এবারের সাফে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবেন মধ্যমাঠের তারকা অভিজ্ঞ মারিয়া মান্ডা। তাঁর চোখেও এবার হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন, ‘আমরা টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন ছিলাম এবং এখন আবার নতুন করে করতে হচ্ছে। যদিও এটি একটি নতুন টুর্নামেন্ট এবং এখানে চ্যালেঞ্জ আছে, তবে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। এবং আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ (ধাপে ধাপে) এগোতে চাই এবং প্রতিটি ম্যাচ ধরে আমাদের পারফরম্যান্স দেখে সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব।’

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!