সিলেট টেস্টের প্রথম দিনটা মোটেও নিজেদের করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে টাইগাররা। পাকিস্তানি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ আর ব্যাটারদের ভুলে মাত্র ১০৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।
তবে সেখান থেকেই দলকে লড়াইয়ে ফেরান লিটন দাস। তার দৃঢ় ইনিংসে ভর করে শেষ পর্যন্ত ২৭৮ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ, যা না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যেতে পারত।
দিনের শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে ভালোভাবেই দিন পার করে পাকিস্তান। ৬ ওভার খেলে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান তুলে দিন শেষ করে সফরকারীরা। ফলে প্রথম দিনের শেষে কিছুটা এগিয়েই রয়েছে তারা।
দ্বিতীয় দিনে তাই ম্যাচে ফেরার জন্য বড় দায়িত্ব বাংলাদেশের বোলারদের কাঁধে। বিশেষ করে সকালের প্রথম সেশনটি হতে পারে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। শুরুতেই উইকেট তুলে নিতে পারলে চাপ তৈরি করা সম্ভব হবে পাকিস্তানের ওপর।
সিলেটের উইকেট নিয়েও আলোচনা রয়েছে। মিরপুরের মতো এখানে বোলারদের তেমন সহায়তা নেই, বরং ব্যাটারদের জন্য পরিস্থিতি বেশ অনুকূল। পাকিস্তানের বোলার খুররম শাহজাদও দিনের শেষে জানিয়েছেন, এই উইকেটে বড় রান করার সুযোগ রয়েছে। তাদের লক্ষ্য থাকবে বড় জুটি গড়ে ৪০০-৪৫০ রানের স্কোর দাঁড় করানো।
লিটন দাসও স্বীকার করেছেন, উইকেট এখন অনেকটাই ব্যাটিং সহায়ক হয়ে উঠেছে। তাই বোলারদের ধৈর্য ধরে পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে হবে। তিনি মনে করেন, নির্দিষ্ট জায়গায় ধারাবাহিক বল করতে পারলে ব্যাটারদের ভুল বের করে আনা সম্ভব।
আজকের দিনে তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও অন্যান্য বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং-ই হতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা। বিশেষ করে নতুন বল হাতে প্রথম ১০ ওভার—এই সময়টিই নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচের গতিপথ।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানের হয়ে ব্যাটিং শুরু করবেন আব্দুল্লাহ ফজল (৮*) ও আজান আওয়াইজ (১৩*)। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ২৫৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।
এখন দেখার বিষয়—পরিকল্পনাকে কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারে বাংলাদেশ, আর দ্বিতীয় দিনটা নিজেদের করে নিতে পারে কিনা টাইগাররা।

