বিমা দাবি প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি অনেক সময়ই গ্রাহকের কাছে হতাশাজনক মনে হয়। অনেকে মনে করেন, কোম্পানিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে দাবি পরিশোধ এড়িয়ে যায়। বাস্তবে চিত্রটা এতটা একপেশে নয়। নিয়ম-কানুন, তথ্যের সঠিকতা এবং প্রক্রিয়াগত কিছু বিষয় ঠিকমতো অনুসরণ না করলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়।
কেন বিমা দাবি নাকচ হয়
বিমা একটি চুক্তিভিত্তিক সেবা। ফলে এর প্রতিটি শর্তই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত কয়েকটি কারণে দাবি বাতিল হয়ে থাকে—
প্রথমত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি। চিকিৎসা সংক্রান্ত বিল, প্রেসক্রিপশন বা হাসপাতালের নথি ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে কোম্পানির পক্ষে দাবির সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয়ত, পূর্ববর্তী অসুস্থতা গোপন রাখা। পলিসি নেওয়ার সময় নিজের স্বাস্থ্যগত ইতিহাস সঠিকভাবে না জানালে ভবিষ্যতে সেই অসুস্থতা-সংক্রান্ত দাবি সহজেই ‘প্রি-এক্সিস্টিং’ হিসেবে বাতিল হতে পারে।
তৃতীয়ত, ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া। ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত—যেকোনো অসঙ্গতি দাবি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
চতুর্থত, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করা। অধিকাংশ বিমা দাবির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করা বাধ্যতামূলক। দেরি হলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না।
পঞ্চমত, পলিসির আওতার বাইরে থাকা ঘটনা। সব ধরনের ঝুঁকি বিমার অন্তর্ভুক্ত থাকে না—এ বিষয়টি অনেকেই উপেক্ষা করেন।
কীভাবে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব
দাবি প্রত্যাখ্যান এড়াতে কিছু সচেতন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ—
প্রথমেই, পলিসির শর্তাবলি ভালোভাবে বোঝা জরুরি। কী কভার হবে আর কী হবে না—এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকলে ভুল প্রত্যাশা তৈরি হয় না।
দ্বিতীয়ত, সব ধরনের চিকিৎসা নথি ও ব্যয়ের প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত। প্রয়োজনে ডিজিটাল কপিও রাখা যেতে পারে।
তৃতীয়ত, তথ্য প্রদানে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো তথ্য গোপন করা ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
চতুর্থত, সময়মতো দাবি দাখিল করা এবং প্রয়োজনীয় ফরম পূরণে সতর্ক থাকা জরুরি।
পঞ্চমত, শুধুমাত্র অনুমোদিত চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহণ করলে যাচাই প্রক্রিয়া সহজ হয়।
সব বিমা কোম্পানি দাবি পরিশোধে গড়িমসি করে—এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে উচ্চহারে দাবি নিষ্পত্তি করছে। যেমন : Guardian Life Insurance Limited-এর মতো কিছু কোম্পানি তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক দাবি পরিশোধের জন্য পরিচিত।
বিমা দাবি প্রত্যাখ্যানের পেছনে শুধু কোম্পানির অনীহা নয়, গ্রাহকের অসচেতনতাও বড় ভূমিকা রাখে। সঠিক তথ্য প্রদান, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং শর্তাবলি মেনে চললে এই সমস্যাগুলোর বেশিরভাগই এড়ানো সম্ভব। একইসঙ্গে কোম্পানিগুলোকেও গ্রাহকদের নিয়ম সম্পর্কে আরও স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। উভয় পক্ষ দায়িত্বশীল হলে বিমা খাতের প্রতি আস্থা অনেকটাই বাড়বে।

