সাবেক স্পিকার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশের সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
মৃত্যুর আগে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফরহাদ উল্লাহ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের সঙ্গে কাটানো দীর্ঘ রাজনৈতিক স্মৃতিগুলো আজীবন মনে থাকবে। তিনি বলেন, "আর কোনো দিন আমার কাঁধে হাত রেখে সেই গল্পের ঝুড়ি খুলবেন না।"
ফরহাদ উল্লাহ স্মরণ করেন, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে জাতিসংঘের লিগ্যাল কমিটিতে পাঠিয়েছিলেন। সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি দেশে ফিরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচারণায় শহীদ জিয়ার সঙ্গে পাবনা, নাটোর, নওগাঁ ও বগুড়ায় প্রথম নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। পরে ৩ জুন ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট বিলুপ্ত করে বিএনপি গঠনের নানা স্মৃতিও তাঁর সঙ্গে ভাগাভাগি করতেন বলে উল্লেখ করেন ফরহাদ।
তিনি আরও লেখেন, "স্যার বলতেন, `ফরহাদ, ছোট বয়সে দলের জন্য তোমার অবদান অনেক।` স্যারের সেই স্নেহ, ভালোবাসা ও স্মৃতি কখনো ভোলার নয়।"
প্রয়াত এই নেতার উদ্দেশে ফরহাদ উল্লাহ তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "স্যার, আপনার রুহানী ফয়েজের জন্য আমার মোনাজাতের হাত আজীবন তোলা থাকবে। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।"
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্পিকার, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

