হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে গাড়ি চেয়েছে - এই নিউজটা নিয়ে অনেকে ট্রোল করছে, তীর্যক মন্তব্য করছে। বলছে, নির্বাচনের আগে তো বলেছিল শুল্কমুক্ত গাড়ি নিবে না, আর এখন নিজে থেকেই গাড়ি চাচ্ছে!
অথচ ব্যাপারটা খুবই সিম্পল। শুল্কমুক্ত গাড়ি হাসনাত এখনও চায়নি। চেয়েছে সরকারি গাড়ি। দুইটার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য আছে।
শুল্কমুক্ত গাড়ি হচ্ছে ট্যাক্স ছাড়াই বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করার সুবিধা। এটা হচ্ছে এমপিদের দুর্নীতির দারুণ একটা "বৈধ" সুযোগ।
নিজের নামে ট্যাক্স ছাড়াই বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করে সেটা অন্য কারও কাছে বেচে দিয়ে ইজিলি কয়েক কোটি টাকা লাভ করা যায়।
হাসনাত সেটা চায়নি। হাসনাত যেটা চেয়েছে, সেটা হচ্ছে এমপি হিসেবে যাতায়াত করার জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় গাড়ি। সরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তারা চাকরিতে থাকাকালীন সরকারি গাড়ি পায়, সেরকম গাড়ি।
এটা ব্যক্তিগত গাড়ি হবে না। ফলে কেবল এমপি থাকাকালেই এই গাড়ি ব্যবহার করা যাবে। এমপিত্ব চলে গেলে সেটা আবার রাষ্ট্রের কাছেই ফেরত যাবে।
এমপিরা অবশ্য যাতায়াতের জন্য সরকারের কাছ থেকে যাতায়াত খরচ পাওয়ার কথা। হাসনাতের নিজেরই একটা ভিডিও আছে, এমপি হলে সে কী কী সুবিধা পাবে, সেটা নিয়ে। সেক্ষেত্রে সেই যাতায়াত খরচের পরেও গাড়ির আসলেই প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, এটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু শুল্কমুক্ত গাড়ির সাথে যেভাবে এই সরকারি গাড়ি চাওয়াকে মিলিয়ে ফেলে হাসনাতকে দোষ দেওয়া হচ্ছে, সেটা অনুচিত।
লেখক: মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা, তার ফেসবুক থেকে নেয়া।
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। আওয়াজনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য আওয়াজনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।

