জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “বর্তমান সরকারে মধ্যে নতুন করে এস আলম এবং সালমান এফ রহমান হওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হলে দলটির ‘ছায়া বাজেট কমিটি’ আয়োজনে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট: কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার এবং জনপ্রত্যাশার বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “ব্যাংকিং খাতে বিগত ১৬ বছরে নজিরবিহীন লুটপাট এবং দুর্নীতি হয়েছে। কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও পরিবারকেই বিশাল বিশাল অঙকের ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং সেই ঋণের টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে, তারা ঋণখেলাপি হয়েছে। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের সিম্পল প্রত্যাশা যে, এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে আর হবে না। কিন্তু, সরকারের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সরকারের এস আলম কে হবে, এই সরকারের সালমান এফ রহমান কে হবে এইটার একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সরকার আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। আমাদের এই আলোচনা সরকার কতটুকু গুরুত্ব সহকারে নেবে, যেখানে সংসদে বিরোধী দলের অনেক আলোচনা পাশ কাটিয়ে সরকার তার মতো করে আইন পাশ করেছে। এইটা আমাদের অভিজ্ঞতা। তারপরও আমরা ছায়াবাজেট করতে চাচ্ছি।”
এনসিপির এই নেতা বলেন, “আমরা একটি সংস্কারমুখী, যেটা বিনিয়োগমুখী এবং যেটা কর্মসংস্থানমুখী বাজেট চাই। দেশের অর্থনীতির যে অবস্থা চাইলে সরকার সেটা খুব ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারত, যদি তারা ন্যূনতম জাতীয় ঐক্য বজায় রাখত। অর্থনৈতিক সংস্কার রাজনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে অত্যন্ত সম্পর্কিত। আমরা দেখলাম, প্রথম অধিবেশনে সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটে যে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো, সেগুলো রক্ষা করেনি। ফলে আমাদের যে অর্থনৈতিক সংস্কারের যাত্রা ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকে আমরা আবার দুই ধাপ পিছিয়ে গেলাম।”
বিদেশি বিনিয়োগের আগে দেশের সৎ ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “দেশীয় ব্যবসায়ীদের যদি বিনিয়োগ করার আস্থা না থাকে, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না, এটা খুবই স্বাভাবিক। সরকারের লোকেরা আগে বলেছে, নির্বাচিত সরকার এলেই বিদেশি বিনিয়োগ হুরহুর করে আসা শুরু করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, ডক্টর ইউনূস যতটুকু সক্ষমতা দেখিয়েছেন, আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন সম্পর্ক স্থাপন এবং বাংলাদেশে টাকা আনার ক্ষেত্রে, এই সরকার কিন্তু কোনো একটা দেশ থেকে এখন পর্যন্ত দাওয়াত পর্যন্ত পায়নি। আইএমএফের ঋণ তাদের বন্ধ হয়ে গিয়েছে।”
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “ব্যবসায়ীদের নিজের উপদেষ্টা কমিটিতে রেখে বিশ্বাস অর্জন করা যায় না। কিন্তু, বাংলাদেশের অর্থনীরি জন্য ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস অর্জন করা দরকার। যেসব ব্যবসায়ী একটু সৎভাবে ব্যবসা করেন, তাদেরকে ঋণ দেওয়া, যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদেরকে শিল্প বিস্তারের কথা আমরা বলে আসছি। বড় বড় গোষ্ঠীকে, কর্পোরেটকে আপনারা ঋণ দেবেন, যে ঋণ তারা রাজনৈতিক লবিংয়ের মাধ্যমে পায়, যেই ঋণ তারা শোধ করে না। কিন্তু, একজন কৃষক যদি পাঁচ হাজার টাকা ঋণ নেন এবং সেই ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তার কোমরে দড়ি বেঁধে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।”
অর্থনৈতিক সংস্কারে সরকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কোনো সরকার এককভাবে মোকাবিলা করতে পারবে না। সবার সহযোগিতায় আমরা ভঙ্গুর ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পাব।”

