ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ঢাকা

menu

বিলাসবহুল হোটেলে নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার, নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০২:০২ পিএম

বিলাসবহুল হোটেলে নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার, নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ

ছবি সংগৃহীত

বিভাগের সাতটি জেলা ও খুলনা মহানগরীর নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিতে গত শনিবার খুলনা সফর করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। সিটি ইন নামে নগরীর তারকা মানের হোটেলে অবস্থান করেন তারা। ওই হোটেলের একটি বিলাসবহুল স্যুটে জেলা পর্যায়ে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হতে আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। পদপ্রত্যাশী অনেক নেতার উপস্থিতিতে হোটেলের অন্য অতিথিরা বিব্রত হন।

এদিকে মহানগর ও জেলা কমিটির শীর্ষ পদ পেতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন খুলনা মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক আহ্বায়ক এস এম মুশফিকুর রহমান ও সদস্য সচিব শওকত হোসেন বাবুল। তাদের দেখে ক্ষুব্ধ হন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে দলটির কমিটি করতে তারকা মানের হোটেল এবং স্যুট বেছে নেওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন অনেকে।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠন শুরু করেছে এনসিপি। মাগুরা ছাড়া খুলনা বিভাগে আর কোনো জেলায় কমিটি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ ছিলেন।

খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে কমিটি করতে বাছাই করা নেতাদের সাক্ষাৎকার নিতে শুক্রবার রাতে খুলনায় আসেন এনসিপি নেতারা। ওঠেন হোটেল সিটি ইনে। এই টিমে ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক।

গত শনিবার বেলা ১১টায় সাক্ষাৎকার শুরু হয়ে চলে রাত আড়াইটা পর্যন্ত। রাত সাড়ে ৩টায় তারা হোটেল ত্যাগ করেন। মাগুরা, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর বাদে বিভাগের সাতটি জেলা এবং খুলনা মহানগরীর আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদ পেতে শতাধিক নেতা সাক্ষাৎকার দেন। এর মধ্যে ছিলেন মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক আহ্বায়ক এস মুশফিকুর রহমান। ছাত্রদলে রাজনীতি শুরু করা মুশফিক ২০০৮ সালে নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসন থেকে প্রার্থী হন। ২০১৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে কেসিসির মেয়র পদে নির্বাচন করেন এবং এক হাজার ৭২ ভোট পেয়ে জামানত হারান। পরে তাঁকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৩ সালের কেসিসি নির্বাচনে অংশ নেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। তাঁর সঙ্গে জাতীয় পার্টিতে থাকা শওকত হোসেন বাবুল গত বছর জাতীয় পার্টি ছাড়েন।

এ ব্যাপারে মুশফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি ছেড়েছি অনেক আগে। এখন যুবকদের নিয়ে রাজনীতি করছি। তরুণদের নিয়ে এই ঘুণেধরা সমাজ পরিবর্তন করতে চাই। তরুণরাই আমাকে এনসিপির নেতৃত্বে আসতে উদ্বুদ্ধ করছে।

জেলা কমিটির সাবেক সদস্য সচিব সাজিদুল ইসলাম বাপ্পী বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল, চার দেয়ালের বদ্ধ হোটেলে সীমিত কিছু ব্যক্তির সঙ্গে না বসে, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কোনো উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের মুখোমুখি হবেন। সবার মতামত নিলে বেশি ভালো হতো। এই একটি কারণে খুলনার সাধারণ নেতাকর্মীরা কিছুটা আশাহত হয়েছেন।’

এনসিপি নেতা ফরিদুল হক বলেন, ‘এটা উন্মুক্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। আমরা একেক জনের সঙ্গে আলাদা কথা বলতে চেয়েছি। খুলনায় আমাদের অফিস নেই, কারও বাড়িতে এত মানুষ নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করা সম্ভব নয়। এ জন্য আমরা সবচেয়ে সস্তা হোটেলই বেছে নিয়েছি।’

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!