১৯৭৭ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের লিগ্যাল কমিটির আন্তর্জাতিক আইনসংক্রান্ত কিছু কাজ সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আমি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তিনি কথায় কথায় একটি রাজনৈতিক দল গঠন করবেন বলে জানান এবং তা করলে কেমন হয়, সে সম্পর্কে আমার মতামত জানতে চান।
আমি তাঁকে বলি, আপনার মতো দেশদরদি, কঠিন পরিশ্রমী ও সৎ ব্যক্তিত্ব যদি রাজনৈতিক দল গঠন করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ রাজনীতিতে আস্থা ফিরে পাবে।
প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ১৯৭৮ সালের প্রথম দিকে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে আহ্বায়ক করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠিত হয় এবং প্রথমে এর কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিতে আমিও একজন সদস্য হিসেবে ছিলাম।
কাজ শুরু হলো। মির্জা গোলাম হাফিজ ভাই, মাইদুল ইসলাম মুকুল এবং আমি মাইদুলের গাড়ি নিয়ে পাবনা যাই জাগদলকে তৃণমূলে সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে। পাবনার স্নেহাস্পদ রুহুল্লাহ, যদিও বয়সে ছোট, এবং তাঁর সঙ্গে সিনিয়র অ্যাডভোকেট সবুর আমাদের যথেষ্ট সাহায্য-সহযোগিতা করেন।
সেখান থেকে আমরা নওগাঁ যাই। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নওগাঁতে একটি জনসভা করেন। নওগাঁর জনগণ নওগাঁকে জেলায় উন্নীত করার দাবি জানায়। জনসভার পরে প্রেসিডেন্ট জিয়া নওগাঁকে জেলায় উন্নীত করা যায় কি না, সে ব্যাপারে আমাকে জিজ্ঞাসা করলে আমি বলি, ব্রিটিশ আমলে নওগাঁকে জেলা করার ব্যাপারে একটি কমিটি করা হয়েছিল। সেই কমিটি জেলা করার পক্ষে রিপোর্ট দিয়েছিল। পুরোনো রেকর্ড খুঁজলে তা হয়তো পাওয়া যাবে।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পকেট থেকে ডায়েরি বের করে নোট লিখে নিলেন। বুঝলাম, নওগাঁকে জেলা করার ব্যাপারে কোনো রিপোর্ট আছে কি না, তা জানার জন্য তিনি নোট লিখে রাখলেন।
মির্জা গোলাম হাফিজ ভাই, মাইদুল ইসলাম এবং আমি পরবর্তীতে রাজশাহী যাই। রাজশাহী বারে অ্যাডভোকেট বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করি। স্থানীয় পর্যায়ে তখন অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান আমাদের কন্টাক্ট পয়েন্ট হিসেবে ছিলেন। বারের অনেকের সঙ্গে আলাপ হয় এবং বার সদস্যদের নিয়ে একটি ছোটখাটো মিটিং করে জাগদল গঠনের পটভূমি সম্পর্কে সেখানে বক্তব্য রাখি।
রাজশাহী পৌরসভার চেয়ারম্যান তখন জনাব এমরান আলী সরকার। তিনি রাজশাহীতে ভাসানীপন্থী ন্যাপের সভাপতি। ভাসানীপন্থী ন্যাপ তখনও জাগদলে যোগদান করবে বলে পুরোপুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।
মির্জা ভাই, মাইদুল ইসলাম এবং আমি এরপর জনাব একরামুল হকের সঙ্গে দেখা করলাম। একরামুল হক এবং আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একে অপরের পরিচিত। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের মনোনয়ন নিয়ে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন।
জনাব এমরান আলী সরকার, অ্যাডভোকেট কালাম চৌধুরী ও একরামুল হককে পেলে রাজশাহীর রাজনীতিতে আমরা অনেকটা এগিয়ে যেতে পারব। পৌর চেয়ারম্যান এমরান আলী সরকার সাহেব অবশেষে জাগদলের আহ্বায়ক হতে রাজি হলেন। কালাম চৌধুরী, একরামুল হক ও বজলুর রহমানসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে জাগদলের রাজশাহী জেলার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে আমরা ঢাকা ফিরে এলাম।
এভাবে আমাদের মতো অন্যান্য সদস্যদের আঞ্চলিক দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে দেশের প্রতিটি জেলায় জাগদলের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে একটি ব্যাপকভিত্তিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা শক্তি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
এরই মধ্যে মওলানা ভাসানী ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর স্থলে জনাব মশিউর রহমান যাদু মিয়া ন্যাপ ভাসানীর নেতা হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ন্যাপ ভাসানীর কাউন্সিল মিটিং ডাকলেন ঢাকায়। তাঁদের পার্টির কাউন্সিল ঢাকার একটি হোটেলে বসে সিদ্ধান্ত নিল যে, সেদিন থেকে ন্যাপ ভাসানী বিলুপ্ত হলো এবং ভবিষ্যতে নতুন শর্তে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত পার্টিতে তাঁরা যোগ দেবেন। একই সঙ্গে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁরা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সমর্থন দেবেন।
জাগদল স্থগিত করে বিএনপি গঠনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলো। জাগদল স্থগিত করার দিন আহ্বায়ক বিচারপতি আব্দুস সাত্তার প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলেন। আমরাও, যারা প্রথম থেকে জাগদলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, তারাও মনে কষ্ট পেয়েছিলাম। প্রেসিডেন্ট জিয়া বলেছিলেন, বড় কিছু পেতে হলে কিছু ত্যাগ করতে হয়।
### বিএনপির জন্ম
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনা রেস্তোরাঁর পাশে প্যান্ডেল টানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি গঠনের ঘোষণা প্রদানের জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেখানে বক্তব্য রাখেন এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।
নবঘোষিত রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মহাসচিব হলেন ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
সাংবাদিকরা প্রেসিডেন্ট জিয়াকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনি সৎ ব্যক্তি, পার্টি চালানোর টাকা কোথায় পাবেন?’
প্রেসিডেন্ট জিয়া উত্তরে বলেছিলেন—
“মানি ইজ নো প্রবলেম ইফ ইউ ওয়ার্ক ইন দ্য ইন্টারেস্ট অব দ্য পিপল অ্যান্ড দ্য কান্ট্রি।”
অর্থাৎ, জনগণ ও দেশের স্বার্থে কাজ করলে অর্থ কোনো সমস্যা নয়।
এভাবেই বিএনপির জন্ম হয়। দলের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র তৈরি হয়। জনগণের স্বার্থে সরকারের করণীয় কার্যসূচি ১৯টি দফায় লিপিবদ্ধ করা হয়।
প্রেসিডেন্ট জিয়া পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে গঠনতন্ত্র মোতাবেক দলের স্ট্যান্ডিং কমিটি বা জাতীয় স্থায়ী কমিটির ১১ জনের নাম ঘোষণা করেন।
১। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান — চেয়ারম্যান
২। বিচারপতি আব্দুস সাত্তার — ভাইস চেয়ারম্যান
৩। ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী — মহাসচিব
৪। শাহ আজিজুর রহমান — সদস্য
৫। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার — সদস্য
৬। ডা. ইউসুফ আলী (চট্টগ্রাম) — সদস্য
৭। শেখ রাজ্জাক আলী — সদস্য
৮। প্রফেসর একরামুল হক (রাজশাহী) — সদস্য
৯। সৈয়দ মহিবুল হাসান (সিলেট) — সদস্য
১০। আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী (বরিশাল, অধুনা পটুয়াখালী) — সদস্য
১১। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা — সদস্য।
স্ট্যান্ডিং কমিটি বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক পার্টির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রতি সপ্তাহে এর মিটিং ডাকতেন। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম কমেছে নাকি বেড়েছে এবং কী কী পলিসি গ্রহণ করা যায়—এসব বিষয়ে সবার মতামত নিতেন। স্ট্যান্ডিং কমিটির সেক্রেটারি হিসেবে কর্নেল আলাউদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
### রাত দুইটার ফোন
মনে পড়ে, একদিন স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং শেষ করতে অনেক সময় লেগেছিল। সম্ভবত পার্টি অফিসেই প্রেসিডেন্ট সাহেবের আপ্যায়নে চাইনিজ খাবার খেয়ে নিয়েছিলাম।
হঠাৎ প্রেসিডেন্ট সাহেব বললেন, ‘দিনাজপুরের খবর কী?’
আমি বললাম, ‘যতটুকু জানি, ভালো।’
তিনি কর্নেল আলাউদ্দিনকে দিনাজপুর জেলা বিএনপির প্রেসিডেন্ট এবং দিনাজপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান মহসিন সাহেবকে টেলিফোনে ধরতে বললেন।
মহসিন সাহেব টেলিফোন ধরেই সালাম দিয়ে বললেন, ‘স্যার, বিশেষ কোনো খবর আছে নিশ্চয়ই। নইলে এত রাতে টেলিফোন করতেন না।’
প্রেসিডেন্ট সাহেব হেসে বললেন, ‘আপনি রাতে আরামে ঘুমাচ্ছেন, আর আমরা স্ট্যান্ডিং কমিটির সবাই আপনার দিনাজপুরের সমস্যা নিয়ে আলাপ করছি। বলুন তো, আপনার পৌরসভার ড্রেনগুলো এখনো পাকা হলো না কেন? তরিতরকারির দাম বাড়ল কেন?’
তিনি বলছেন এবং মৃদু হাসছেন। বুঝলাম, মহসিন সাহেব এতগুলো প্রশ্ন একসঙ্গে শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছেন।
আমি তখন বললাম, ‘স্যার, একটু উৎসাহ দেন, নইলে এতগুলো প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে দিতে পারবে না।’
প্রেসিডেন্ট সাহেব তখন উৎসাহ দিয়ে বললেন, ‘আপনার সব কাজ সব সময় ভালো করতে দেখি। এখন তো এমন হওয়ার কথা নয়। কথাগুলো সব ঠিক বলে মনে হয় না।’
মহসিন সাহেব মনে জোর পেলেন। বললেন, ‘স্যার, চাল, ডাল, তেল, লবণ, তরিতরকারির দাম ঠিকই আছে। একটুও বাড়েনি। তবে আমার পৌরসভার ড্রেনগুলোর কাজ শতকরা ৭০ ভাগ হয়ে গেছে। বাকি কাজ শেষ হলে ও ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা শেষ হলে মশা-মাছিও কমবে।’
প্রেসিডেন্ট সাহেব আমাদের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন আর মহসিন সাহেবকে বলছেন, ‘যাক, মোটামুটি তাহলে সব ঠিক আছে। বাকি কাজ করে ফেলুন। পেঁয়াজ, মরিচ, রসুন ও মাছ-গোশতের দাম আগামীকাল টেলিফোন করে জানাবেন। সব নেতাকর্মীদের আমার সালাম দেবেন।’
মহসিন চেয়ারম্যান খুশিতে আত্মহারা। প্রেসিডেন্ট সাহেব তাঁকে রাত দুইটায় টেলিফোন করেছেন!
সকালে উঠে তিনি সব নেতাকর্মীর মিটিং ডাকলেন এবং সবাইকে জানালেন যে, প্রেসিডেন্ট সাহেব নিজে টেলিফোন করে সব জানতে চেয়েছেন। আরও বললেন, প্রেসিডেন্ট সাহেব সব নেতাকর্মীকে সালাম দিয়েছেন।
ঠিকাদারকে ডেকে বললেন, ড্রেনের বাকি কাজ শিগগিরই শেষ করতে হবে। মশা-মাছির ওষুধ প্রতিদিন যাতে দেওয়া হয় এবং কোনো এলাকা যেন বাদ না যায়, সে খেয়ালও রাখতে বললেন। কারণ মশা-মাছির উপদ্রব যে বেড়েছে, সে খবরও প্রেসিডেন্ট সাহেবের কাছে গিয়ে পৌঁছেছে।
নেতাকর্মীদের বললেন, ‘চল, বাজারে গিয়ে দেখি পেঁয়াজ, রসুন, মাছ-গোশতের দাম কত। কারণ ওনাকে সন্ধ্যার পর টেলিফোন করে জানাতে হবে।’
প্রেসিডেন্ট সাহেবের একটি টেলিফোনে পার্টির নেতাকর্মীদের কাজের উৎসাহ, উদ্যম ও আনন্দ অনেক গুণ বেড়ে গেল—কমপক্ষে এক বছরের জন্য।
### ১৯৭৯ সালের নির্বাচন ও বহুদলীয় রাজনীতির প্রত্যাবর্তন
১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জনাব মশিউর রহমান যাদু মিয়া তাঁর নেতৃত্বাধীন ন্যাপ ভাসানী বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় সংবিধানে কিছু পরিবর্তন সাধন করা হয়। প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতির সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করা হয়।
১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব পার্টি যেন অংশগ্রহণ করে, সে জন্য আওয়ামী লীগ, মুসলিম লীগ, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ, ইউপিপি, জাতীয় লীগ, মস্কোপন্থী ন্যাপ, জাসদসহ সব দলের নেতৃবৃন্দকে প্রেসিডেন্ট জিয়া অনুরোধ জানান।
তাঁর একান্ত ইচ্ছা ছিল, পার্লামেন্ট প্রাণবন্ত থাকবে।
বিএনপি ধানের শীষ, আওয়ামী লীগ নৌকা, মস্কোপন্থী ন্যাপ কুঁড়েঘর, জাসদ মশাল এবং ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি, ইউপিপি, মুসলিম লীগ ও অন্যান্য দল তাদের স্বস্ব প্রতীক নিয়ে ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
সেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রায় ২০০টি আসন পায়। আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩৬টি, মুসলিম লীগ ২৫টি এবং ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ ১৬টি আসন।
খ্যাতনামা রাজনীতিবিদদের মধ্যে জাতীয় লীগ থেকে নির্বাচিত হন পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জনাব আতাউর রহমান খান এবং একই দলের খ্যাতনামা অ্যাডভোকেট ও পার্লামেন্টারিয়ান প্রফেসর মফিজুল ইসলাম।
বামপন্থী দলগুলো থেকে নির্বাচিত হন সাম্যবাদী দলের কমরেড তোয়াহা এবং মস্কোপন্থী ন্যাপের নেতা প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ। জাসদ থেকে নির্বাচিত হন শাহজাহান সিরাজ ও লতিফ মির্জা। ইউপিপি থেকে নির্বাচিত হন রাশেদ খান মেনন।
বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খান। মুসলিম লীগের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন জনাব এম এ সবুর খান, যিনি সাত বছর পাকিস্তান জাতীয় সংসদের লিডার অব দ্য হাউস ছিলেন। ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের সংসদীয় দলের নেতা হন মওলানা আব্দুর রহিম।
পার্লামেন্ট জমজমাট হয়ে ওঠে। স্পিকার হন অ্যাডভোকেট মির্জা গোলাম হাফিজ এবং ডেপুটি স্পিকার হন ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ চৌধুরী।
এভাবেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এবং ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সফলভাবে আয়োজন করে প্রেসিডেন্ট জিয়া বাকশালের অধীনে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেছিলেন।

