ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
ঢাকা

menu

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলই কেন, নেপথ্যে যে সমীকরণ

মোঃ দিদার হোসেন (সজীব)

প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ১১:২৮ পিএম

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলই কেন, নেপথ্যে যে সমীকরণ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: ফাইল ছবি

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে বলে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুই জ্যেষ্ঠ সদস্য জানিয়েছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

দলে দীর্ঘ আস্থার প্রতিদান?

বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় দলের নেতৃত্ব ধরে রাখার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে অবস্থান করার সময় তিনি মহাসচিব হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

দলটির নেতাদের মতে, কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংলাপ, বিভিন্ন দলের সঙ্গে সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ফলে দলীয় রাজনীতির সক্রিয় নেতৃত্ব থেকে তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে তার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি পদে যে বৈশিষ্ট্যগুলো দেখছে বিএনপি

রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অভিভাবকের। রাজনৈতিক সংকট কিংবা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ কারণে দলীয় রাজনীতির বাইরে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম এমন ব্যক্তিকেই এ পদের জন্য বেছে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা মনে করছেন, মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বক্তব্যের ধরন, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সমঝোতার রাজনীতিতে ভূমিকা তাকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে।

সংকটের সময়ে দলের ‘কাণ্ডারি’

বিএনপির জন্য সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। ওই সময়ে দলীয় আন্দোলন, মামলা-মোকদ্দমা এবং গ্রেপ্তারের মতো নানা চাপের মধ্যেও বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম চালু রাখতে মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

দলের নেতাকর্মীদের কাছে এ কারণে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করায় দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কেও তার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

দলীয় রাজনীতির বাইরে গ্রহণযোগ্যতার হিসাব

রাষ্ট্রপতি হিসেবে কেবল ক্ষমতাসীন দলের আস্থা নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তিও গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি পদে এমন কাউকে প্রয়োজন, যিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন। মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে দিয়েছে।

শিক্ষকতা থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে

১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কর্মজীবনের শুরু শিক্ষকতা দিয়ে। ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষকতা করেন তিনি।

পরে সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে আবার শিক্ষকতায় ফিরে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। পরে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সামনে এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

বিএনপির পক্ষ থেকে আগামী বুধবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!