দেশের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। দীর্ঘদিন ধরে ঘরের ভেতরে দুর্বল নেটওয়ার্ক, কল ড্রপ এবং ধীরগতির ইন্টারনেট নিয়ে ভোগান্তিতে থাকা গ্রাহকদের জন্য নতুন সমাধান খুঁজছে সংস্থাটি।
নেটওয়ার্কের মান উন্নত করতে এবার ‘ই-জিএসএম’ ব্যান্ডের তরঙ্গ মোবাইল অপারেটরদের বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি কার্যকর হলে বিশেষ করে ভবনের ভেতরে মোবাইল সিগন্যাল আরও শক্তিশালী হবে এবং গ্রাহকরা উন্নত মানের ভয়েস ও ডাটা সেবা পাবেন।
বর্তমানে দেশের মোবাইল ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ গ্রামীণ ও উপশহর এলাকায় বসবাস করেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ গ্রাহক শহরের বাইরে থাকলেও এসব এলাকায় নেটওয়ার্ক কাভারেজ এখনও তুলনামূলক দুর্বল। ফলে অনেক সময় কল করতে সমস্যা হয়, কথা বলতে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে ধীরগতি দেখা দেয়।
এর আগে নেটওয়ার্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হয় গ্রামীণফোনকে। এবার একই ধারাবাহিকতায় ‘ই-জিএসএম’ ব্যান্ড ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিটিআরসির হাতে বর্তমানে ৮ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ ‘ই-জিএসএম’ স্পেকট্রাম রয়েছে। এর মধ্যে রবি ও বাংলালিংক উভয়ই ৩ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ করে তরঙ্গ বরাদ্দ চেয়েছে। তবে স্থায়ী বরাদ্দের আগে এক মাসের পরীক্ষামূলক ব্যবহার চালানো হচ্ছে। পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো সীমান্তবর্তী এলাকায় ৮৫০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত বিঘ্ন তৈরি হয় কি না, তা যাচাই করা।
রবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত রেখেছে। ফলে অনুমোদন মিললে দ্রুত গ্রাহকদের উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
অন্যদিকে বাংলালিংক জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল বিশ্লেষণ করে তারা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঘরের ভেতরে সিগন্যাল সমস্যা কমবে, কল ড্রপের হার হ্রাস পাবে, ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতা বাড়বে। পাশাপাশি গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকরাও আরও নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল সেবা উপভোগ করতে পারবেন।
বর্তমানে দেশে চারটি মোবাইল অপারেটর ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। নতুন এই স্পেকট্রাম ব্যবহারের উদ্যোগ সফল হলে মোবাইল গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

