রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে হজযাত্রীদের ভোগান্তি যেন পদে পদে। নিরাপত্তা দুর্বলতা, চুরির ঘটনা, মশার উপদ্রব, তথ্যসেবার সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনে দুর্ভোগের অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।
বুধবার সকালে হজক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকের সামনে প্রচণ্ড ভিড়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া উপস্থিতির মধ্যেও ভেতরে ছিল বিশৃঙ্খল পরিবেশ। এর মধ্যেই ঘটে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা।
হজযাত্রী মো. ইমরান হোসেন স্ত্রীকে নিয়ে হজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার ফ্লাইট ধরার আগে সকাল পৌনে ৮টার দিকে তিনি ওজু করতে যান। এ সময় ভুলবশত হাতব্যাগটি বাথরুমে রেখে যান। ব্যাগে পাসপোর্ট, ভিসা, ২২ হাজার সৌদি রিয়াল এবং ১০ হাজার টাকা ছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা।
পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাঞ্জাবি-পায়জামা পরা এক ব্যক্তি ব্যাগটি কাপড় দিয়ে ঢেকে নিয়ে চলে যায়। কিছু সময় পর ব্যাগটি অজুখানায় ফেলে রেখে যেতে দেখা গেলেও অভিযোগ রয়েছে, এর আগেই নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাগে থাকা ব্যাংক কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র অক্ষত ছিল। আরও একটি ফুটেজে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে ক্যাম্প ত্যাগ করতে দেখা যায়। তারা হজযাত্রীর বেশে ক্যাম্পে প্রবেশ করেছিল বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ক্যাম্পে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শনের নিয়ম থাকলেও কীভাবে বহিরাগতরা প্রবেশ করল, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. লোকমান হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
সূত্র জানায়, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত ওই হজযাত্রীকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে দুই হাজার সৌদি রিয়াল দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি নির্ধারিত ফ্লাইটে জেদ্দার উদ্দেশে রওনা হন।
শুধু বড় চুরিই নয়, ছোটখাটো চুরির অভিযোগও রয়েছে। অনেক যাত্রী জানান, ক্যাম্পের আশপাশে বিপুল সংখ্যক ভিক্ষুক অবস্থান করছে। তারা যাত্রীদের বিরক্ত করছে এবং অনেক সময় জোর করে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থেকে আসা এক হজযাত্রী বলেন, ভিক্ষুকদের কারণে চলাচলই কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় তারা পকেটে হাত দেওয়ারও চেষ্টা করে।
অন্যদিকে মশার উপদ্রবও যাত্রীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। একাধিক যাত্রী জানান, ইহরাম অবস্থায় কোনো প্রাণী হত্যা করা নিষেধ থাকায় মশার কামড় সহ্য করেও তারা কিছু করতে পারছেন না।
যদিও হজ পরিচালক বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ফগিং করা হচ্ছে এবং প্রতিটি ডরমিটরিতে মশার কয়েল সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া ছারপোকার সমস্যা দূর করতে আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পের শৌচাগার আগের তুলনায় কিছুটা পরিচ্ছন্ন থাকলেও তথ্যকেন্দ্রে জনবল না থাকায় অনেক যাত্রী ও তাদের স্বজনদের বিড়ম্বনায় পড়তে দেখা গেছে।
এদিকে ব্যাংক বুথগুলোতে সৌদি রিয়াল ও ডলার সংগ্রহে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে।
তবে খাবারের বিষয়ে হজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন পরিচালিত ক্যান্টিনে ১০০ টাকায় সকালের নাশতা এবং ২৫০ টাকার মধ্যে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
হজযাত্রার পঞ্চম দিনে বুধবার ১১টি ফ্লাইটে মোট ৪ হাজার ৫২১ জন হজযাত্রী ঢাকা ছেড়েছেন।

