আজ পবিত্র হজের প্রথম দিন। ফজরের আগ থেকেই লাখো মুসল্লির “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পবিত্র মিনা প্রান্তর। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে হজের মূল কার্যক্রম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হাজীরা ইবাদত, দোয়া ও ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছেন এই মহিমান্বিত দিন।
সোমবার রাত থেকেই হাজীরা মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। কঠোর নিরাপত্তা ও সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে তারা মিনার নির্ধারিত তাঁবুতে পৌঁছান। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী হাজীরা আজ মিনায় অবস্থান করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন এবং অধিকাংশ সময় জিকির-আজকার, কোরআন তিলাওয়াত ও হজের মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা করবেন।
তাঁবুর শহর মিনাজুড়ে ছিল আধ্যাত্মিক আবহ। বিভিন্ন দেশের হাজীদের পাশাপাশি বাংলাদেশি হাজীরাও ধর্মীয় অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে হাজীদের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বিভিন্ন তাঁবু পরিদর্শন করে বাংলাদেশি হাজীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়ে খোঁজ নেন।
আগামীকাল হাজীরা মিনার ময়দান থেকে আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘ওকুফে আরাফা’ পালনের জন্য সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করবেন তারা। সেখানে খুতবার পর একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করা হবে। এ বছরের হজের খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়খ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুজাইফি।
আরাফাত থেকে সূর্যাস্তের পর হাজীরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন এবং মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। পরে মুজদালিফা থেকে কঙ্কর সংগ্রহ করে মিনায় ফিরে বড় জামারায় শয়তানকে প্রতীকী কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার মাধ্যমে হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
চলতি বছর অনুমতিপত্র ছাড়া হজ পালনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সৌদি সরকার। মিনায় প্রবেশের পথে বিভিন্ন চেকপোস্টে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং প্রত্যেক হাজীর জন্য ‘নুসুক’ কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এদিকে প্রচণ্ড গরমের কারণে সৌদি প্রশাসন হাজীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাঁবুর বাইরে অপ্রয়োজনে না বের হওয়া, ছাতা ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি হাজীদের সুবিধার্থে ধর্মমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে মিনায় ৫ হাজার প্যাকেট উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
পবিত্র হজের এই মহাসমাবেশে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও কল্যাণ কামনায় বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মাঝে বিরাজ করছে গভীর ধর্মীয় আবেগ ও অনুপ্রেরণা।

