মালদ্বীপে সমুদ্রের নিচের একটি গুহা অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাঁচজন অভিজ্ঞ ইতালীয় ডুবুরির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই স্থানে এবং একই সময়ে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনাটি ঘটে Alimathaa Island সংলগ্ন একটি সমুদ্রগুহায়, যা ভাভু অ্যাটলের অন্তর্গত। ডুবুরিরা প্রায় ৫০-৬০ মিটার গভীরতায় গুহার ভেতরে আটকা পড়ে যান। তারা “Duke of York” নামের একটি ডাইভিং নৌযানে করে ওই স্থানে গিয়েছিলেন।
এ পর্যন্ত একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বাকি চারজন এখনো গুহার ভেতরে রয়েছে। ঘটনাটি মালদ্বীপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডাইভিং দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালদ্বীপ কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তাদের সঙ্গে কোস্টগার্ড ও পুলিশের ডুবুরি দল এবং একজন ইতালীয় বিশেষজ্ঞ ডুবুরি রয়েছেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি উন্নত হলে গুহার প্রবেশপথ পরীক্ষা করে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।
মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স জানিয়েছে, এটি একটি “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ” উদ্ধার অভিযান, যেখানে বিশেষজ্ঞ ডুবুরি, নৌযান ও আকাশ সহায়তা ব্যবহৃত হচ্ছে।
সাধারণভাবে বিনোদনমূলক ডাইভিংয়ের সর্বোচ্চ গভীরতা ৪০ মিটার। এর বেশি গভীরে গেলে নাইট্রোজেনের প্রভাবে ডুবুরিরা বিভ্রান্ত হতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, ডুবুরিরা গুহার ভেতরে পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন। গুহাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬০ মিটার বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, ডাইভের সময় আবহাওয়া প্রতিকূল ছিল এবং এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তারা পানিতে নামলেও পরে আর ভেসে ওঠেননি। নৌযানের ক্রুরাই প্রথম বিষয়টি টের পেয়ে সতর্ক সংকেত দেয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন বায়োলজির অধ্যাপক Monica Montefalcone (৫১), তার মেয়ে Giorgia Sommacal (২৩), গবেষক Muriel Oddenino, মেরিন ইকোলজিস্ট Federico Gualtieri এবং ডাইভিং প্রশিক্ষক Gianluca Benedetti।
নিহতদের প্রতি সামাজিক মাধ্যমে শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। বন্ধুদের ভাষায়, “তাদের হাসি, উজ্জ্বল উপস্থিতি ও মধুর স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।”
প্রসঙ্গত, মালদ্বীপে ডাইভিং দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও, এর আগে গত ডিসেম্বরে Ellaidhoo Island এলাকায় এক ব্রিটিশ ডুবুরির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।

