ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি পরিচয়ে বসবাসকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আলাদা করে রাখার লক্ষ্যে “হোল্ডিং সেন্টার” স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচয় গোপন করে বসবাসের অভিযোগ বাড়তে থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে যেসব ব্যক্তি রোহিঙ্গা বা সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত হবেন, তাদের সরাসরি কারাগারে না পাঠিয়ে অস্থায়ীভাবে এসব হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনেক ক্ষেত্রে রোহিঙ্গারা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে একদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে তাদের পৃথকভাবে নজরদারির আওতায় আনতেই হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কলকাতা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। যাতে নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালাও লঙ্ঘিত না হয়।

