মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আকস্মিক হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত হানে। পরে ৯ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেটি এখন ভেঙে পড়ার মুখে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
নতুন সামরিক পরিকল্পনা
পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা ইরানে দ্বিতীয় দফা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্ভাব্য এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এপিক ফিউরি ২.০’। আগের অভিযানের নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’।
পেন্টাগন ইতোমধ্যে সম্ভাব্য হামলার কৌশলগত প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো হামলার বিষয়ে সবুজ সংকেত দেননি। তিনি সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি এর অর্থনৈতিক প্রভাবও বিবেচনায় রাখছেন। কারণ দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের চাপ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও পড়ছে।
অন্যদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, নতুন করে হামলা হলে তারা আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও পাকিস্তানের ভূমিকা
এই সংকট নিরসনে শুরু থেকেই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। সম্প্রতি দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি তেহরান সফর করেছেন। এর আগে ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা স্থায়ী শান্তির পথ খুলে দিতে পারে।
‘বিশ্বাস সংকট’ বড় বাধা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গভীর ‘বিশ্বাসের সংকট’। তার মতে, অতীতে আলোচনার সময়ই হামলার ঘটনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমে গেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন কৌশল
এদিকে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে। সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবল নিয়ন্ত্রণে এনে বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ফি আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ও আর্থিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গাজায় উত্তেজনা অব্যাহত
একই সময়ে গাজা উপত্যকাতেও উত্তেজনা থামেনি। ইসরায়েলি হামলায় হামাসের সামরিক শাখার এক শীর্ষ নেতার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চললেও সেখানে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। একদিকে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান, অন্যদিকে ভঙ্গুর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—এই দুইয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে পুরো অঞ্চল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই এখন নির্ধারণ করতে পারে, পরিস্থিতি আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেবে নাকি শান্তির পথে এগোবে।

