ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
ঢাকা

menu

ইসলামী ব্যাংকগুলোর আস্থার সংকটে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সাফল্য

আওয়াজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

ইসলামী ব্যাংকগুলোর আস্থার সংকটে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সাফল্য

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মোসলেহ উদ্দীন আহমেদের সাক্ষাৎকার

দেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো ঋণখেলাপি, সুশাসনের ঘাটতি এবং গ্রাহকের আস্থা সংকটের কারণে কঠিন সময় পার করছে। এমন বাস্তবতায় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক নিজেদের আর্থিক স্থিতিশীলতা, মুনাফা, আমানত ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবায় ইতিবাচক অবস্থান ধরে রেখেছে বলে দাবি করেছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ। ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের সংকট, ঋণখেলাপি, সাইবার নিরাপত্তা এবং এসএমই ও কৃষি খাতে পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আওয়াজ নিউজের বিশেষ প্রতিবেদক

 

প্রশ্ন: বর্তমানে আপনার ব্যাংকের অবস্থাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ:
আমাদের ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা খুবই ভালো। গত বছরের তুলনায় আমরা দ্বিগুণ মুনাফা করেছি। ২০২৪ সালে যেখানে মুনাফা ছিল ১৬২ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩৬৮ কোটি টাকা। আমাদের কখনোই তারল্য সংকট ছিল না, এমনকি ব্যাংকিং খাতের বড় সংকটের সময়ও আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পেরেছি।

ট্রেড ফাইন্যান্স আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। নিজস্ব মূলধনের ভিত্তিতে আমরা যে পরিমাণ ট্রেড ফাইন্যান্স পরিচালনা করি, তা অন্য অনেক ব্যাংকের তুলনায় বেশি। ২৫ বছরের ইতিহাসে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে অন্যতম ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমরা গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছি।

 

প্রশ্ন: আমানত, ঋণ বিতরণ ও মুনাফার ক্ষেত্রে গত এক বছরে কী ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে?

মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ:
আমাদের আমানত প্রবৃদ্ধি প্রায় ১০ শতাংশ। পুরো ব্যাংকিং খাতে যেখানে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশ, সেখানে আমাদের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৯ শতাংশ। মুনাফা বেড়েছে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

এছাড়া আমদানি ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ শতাংশ এবং রপ্তানিতে ৬০ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে আমাদের নতুন কোনো ঋণ খেলাপি হয়নি, যা ব্যাংকের স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রমাণ।

 

প্রশ্ন: দেশের ব্যাংকিং খাতে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ:
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ঋণখেলাপি। এটি দিন দিন বাড়ছে এবং এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঋণখেলাপি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ব্যাংকিং খাত বড় সংকটে পড়বে।

বর্তমানে ব্যবসায়ীরাও কঠিন সময় পার করছেন। আগে ভালো ব্যবসা করলেও এখন অনেকেই ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যে আছেন। তবে আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক হলো, গত ছয়-সাত বছরে নতুন কোনো খেলাপি ঋণ তৈরি হয়নি।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই। অন্যথায় ভালো গ্রাহকেরাও নিরুৎসাহিত হবেন এবং দুর্বৃত্ত ঋণগ্রহীতারা আরও উৎসাহিত হবে।

 

প্রশ্ন: শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ:
শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক দুটি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়—ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং শরিয়াহ নীতিমালা। এর পাশাপাশি করপোরেট সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের দেশে করপোরেট গভর্নেন্স যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শরিয়াহ আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশাবাদী।

 

প্রশ্ন: সাইবার নিরাপত্তায় আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?

মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ:
গ্রাহকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক করেছি। প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার আপডেট করা হয়েছে। ডিজাস্টার রিকভারি ব্যবস্থাও নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।

সাইবার নিরাপত্তায় যত ব্যয়ই হোক না কেন, আমরা এটিকে ব্যাংকের লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করি। এখন পর্যন্ত শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে কোনো সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বড় ঘটনা ঘটেনি।

 

প্রশ্ন: বর্তমানে কোন খাতগুলোকে বেশি ঋণ দিচ্ছেন? কৃষি ও এসএমই খাতে কী ধরনের কাজ করছেন?

মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে আমরা গ্রিন ব্যাংক ক্যাটাগরিতে রয়েছি এবং দেশের শীর্ষ টেকসই ব্যাংকগুলোর একটি।

এসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ২৫ শতাংশের চেয়েও বেশি ঋণ বিতরণ করেছি। কৃষি খাতেও আমাদের বিভিন্ন অর্থায়ন পণ্য রয়েছে। আমরা করপোরেট, রিটেইল ও এসএমই—এই তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে এগোচ্ছি।

আমাদের বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অযাচিত চাপ নেই। বোর্ডে কোনো একক কর্তৃত্বও নেই। ফলে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাংক পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু ইসলামী ব্যাংকিং নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতে একটি শক্তিশালী ও টেকসই অবস্থান তৈরি করা।
 

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!