ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
ঢাকা

menu

আরডিএস নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

আরডিএস নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকরা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে উন্মুক্ত চিঠি দিয়েছেন ব্যাংকটির উদ্বিগ্ন শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাদের দাবি, সংসদে উপস্থাপিত তথ্য ব্যাংকের নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন ও প্রকাশিত আর্থিক তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উন্মুক্ত চিঠিতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে দাবি করেছেন যে, আরডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের আগে ১১ হাজার কোটি টাকা এবং তারও আগে আরও ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ অর্থ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে গেছে বলেও ইঙ্গিত করা হয়েছে।

তবে ইসলামী ব্যাংকের ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আরডিএস প্রকল্পের মোট বিনিয়োগ বা ঋণ স্থিতি ছিল ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ৭৭ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।

চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়, যদি প্রকৃতপক্ষে অতিরিক্ত ১১ হাজার কোটি টাকা কিংবা মোট ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ হয়ে থাকে, তাহলে তার প্রতিফলন ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে কোথায় রয়েছে।

আরডিএস প্রকল্পের আর্থিক অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে চিঠিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের শেষে প্রকল্পটির মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩২ কোটি টাকা এবং ঋণ আদায়ের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। আগের বছর এ হার ছিল ৯৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ফলে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ পুনরুদ্ধার হার বজায় রেখে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নিরীক্ষিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আরডিএস চালুর পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৩৫ হাজার ৩৫২টি গ্রাম এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে এবং ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পরিবার অর্থায়ন সুবিধা পেয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এমন একটি বৃহৎ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা বা এর উপকারভোগীদের সম্পর্কে সাধারণীকৃত মন্তব্য করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

উদ্বিগ্ন শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। সেগুলো হলো— সংসদে উত্থাপিত ১১ হাজার কোটি ও ২২ হাজার কোটি টাকার তথ্যের উৎস কী, তথ্যগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক বা কোনো নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর সঙ্গে অসামঞ্জস্য থাকলে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হবে কি না এবং একটি তালিকাভুক্ত ব্যাংকের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনকে অতিক্রম করে দেওয়া বক্তব্যের জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।

চিঠির শেষে বলা হয়, জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা হওয়ায় সেখানে উপস্থাপিত তথ্য জনগণ সত্য ও নির্ভরযোগ্য বলে গ্রহণ করে। ফলে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্যগত অসামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্য শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের সুনাম নয়, দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে সত্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনে তথ্যগত সংশোধন আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!