ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
ঢাকা

menu

বিএসইসি চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ১১:২৩ এএম

বিএসইসি চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের পদত্যাগ

বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তারা।খেলাধুলা আপডেট

বিএসইসির এই কমিশনে ছিলেন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং চারজন কমিশনার—মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন।

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। একই বছরের ২ জুন মু. মহসীন চৌধুরী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২৮ আগস্ট মো. আলী আকবর, ৩ সেপ্টেম্বর ফারজানা লালারুখ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই মো. সাইফুদ্দিন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।

এর আগে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর থেকেই বিএসইসিতে পরিবর্তনের জোর আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যানসহ চার কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করলেন।

পদত্যাগ পত্রে যা লিখেছেন রাশেদ মাকসুদ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, গত ২১ মাস ধরে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করার লক্ষ্যে তিনি সরকারি এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পদত্যাগের ঘোষণায় খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, তারা অত্যন্ত অস্থির সময়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আইনগত কাঠামো ও বাজার শৃঙ্খলার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেন।

তিনি জানান, এই সময়ে কমিশন মার্জিন, আইপিও, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র সিকিউরিটিজ ও হুইসেলব্লোয়ার–সংক্রান্ত মোট পাঁচটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট এবং করপোরেট পুনর্গঠন বিষয়ে তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন প্রণয়নের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

বার্তায় তিনি আরও বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কমিশন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সব ধরনের হস্তক্ষেপমূলক ব্যবস্থা অপসারণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নিয়মিত অংশীজন সম্পৃক্ততা কর্মসূচির মাধ্যমে বাজার, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও ইস্যুকারীদের স্বাধীনভাবে পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিনিয়োগকারী শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্রতিযোগিতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, নবউদ্যমে উজ্জীবিত ও পুনরুজ্জীবিত বিএসইসি দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পুঁজিবাজারে একটি স্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব রেখে যেতে পেরে তিনি গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন।

পদত্যাগের ঘোষণার শেষে তিনি বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, অংশীজন এবং সরকারের প্রতি তাদের সহযোগিতা ও অঙ্গীকারের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
 

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!