ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ঢাকা

menu

এটিএম বুথে ছেঁড়া টাকা, দায় এড়াচ্ছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক

মোঃ দিদার হোসেন (সজীব)

প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ১২:০৬ এএম

এটিএম বুথে ছেঁড়া টাকা, দায় এড়াচ্ছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক

ফাইল ফটো

দেশের অন্যতম বেসরকারি ব্যাংক ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-এর এটিএম বুথ থেকে ছেড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত নোট বের হওয়ার অভিযোগ বাড়ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে ব্যাংকটির এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে গিয়ে তারা ছেঁড়া, আংশিক কাটা কিংবা ব্যবহারের অযোগ্য নোট পাচ্ছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। তবে এ বিষয়ে দায় স্বীকার না করে ব্যাংকটি বরং থার্ড পার্টি ভেন্ডরের ওপর দায় চাপাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা আনার কলি জানান, এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার পরই নোটের অবস্থা খারাপ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বাসাবো শাখা বা কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের অভিযোগ যথাযথ গুরুত্ব পায় না। অনেক সময় গ্রাহকদের জানানো হয়, এটিএম মেশিনে টাকা লোডিং ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানের, ফলে এ ধরনের সমস্যার দায় তাদের ওপর বর্তায়।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটিএম সেবায় থার্ড পার্টি যুক্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত দায়ভার ব্যাংকেরই। কারণ গ্রাহকরা ব্যাংকের সেবা গ্রহণ করেন, কোনো ভেন্ডরের নয়। এ বিষয়ে একাধিক বিশেষজ্ঞের মত, গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করা ব্যাংকের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে দায় এড়ানোর প্রবণতা ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক এটিএম বুথে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি রয়েছে। ফলে পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত নোট সহজেই মেশিনে ঢুকে যাচ্ছে এবং সেগুলোই গ্রাহকদের হাতে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত এলাকা বা দূরবর্তী বুথগুলোতে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানান গ্রাহকরা।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক এটিএম সেবার মান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দিলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। গ্রাহক অধিকার রক্ষায় আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ব্যাংকটির একাধিক কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন, এটিএম অপারেশনে থার্ড পার্টি ভেন্ডর ব্যবহারের কারণে কিছু ক্ষেত্রে ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তবে তারা দাবি করেন, সমস্যা শনাক্ত হলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হয়। যদিও গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ব্যাংকগুলোকে এটিএমে নোট যাচাইয়ের প্রযুক্তি আরও উন্নত করতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।

সার্বিকভাবে, এটিএম বুথে ছেড়া টাকা পাওয়া একটি গুরুতর গ্রাহকসেবা সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় দায় এড়ানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবিষয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মুখপাত্র সগির হোসেন বলেন, মূলত এটিএম মেশিনগুলোতে থার্ড পার্টির মাধ্যমে টাকা ইনজেক্ট করা হয়ে থাকে। তবে অভিযোগ আগের মত নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ পেলে সেগুলো স্থানীয় ব্র্যাঞ্চগুলো মিটিয়ে দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!