ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ঢাকা

menu

আমানত ১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা

আমানত সুরক্ষায় আস্থার শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক

আওয়াজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ১২:৩২ এএম

আমানত সুরক্ষায় আস্থার শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক

দেশের ব্যাংকিং খাতে চলমান নানা সংকটের মধ্যেও আমানতের নিরাপত্তা ও গ্রাহক আস্থায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে  ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকের আস্থা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমানতের পরিমাণেও এসেছে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি।

ব্যাংকটির সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট আমানত দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। প্রায় ৩ কোটি গ্রাহকের এই আমানত নিয়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট আমানত প্রায় ২১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিং খাতের আমানত প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা, যার প্রায় ৩৯ শতাংশ এককভাবে ধারণ করছে ইসলামী ব্যাংক। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেখানে অন্যান্য শীর্ষ ব্যাংক ১০-১৫ শতাংশ বাজার অংশীদারিত্ব অর্জনে সংগ্রাম করে, সেখানে ইসলামী ব্যাংকের এই অবস্থান গ্রাহক আস্থারই প্রতিফলন।

শাখা ও সেবার বিস্তৃত নেটওয়ার্কও এই অগ্রগতির বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকটির ৪০০টি শাখা, ২৭৬টি উপশাখা এবং প্রায় ২ হাজার ৮০০ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে, যার মাধ্যমে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

রেমিট্যান্স আহরণেও প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে রয়েছে। দেশের প্রায় ২ কোটি প্রবাসীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠান। ২০২৫ সালে দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৯ শতাংশ—অর্থাৎ প্রায় ৭৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা—এই ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে বলে জানা গেছে। দ্রুত সেবা ও নির্ভরযোগ্যতার কারণে প্রবাসীদের কাছে এটি একটি আস্থার নাম হয়ে উঠেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের সময়েও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে ইসলামী ব্যাংক তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থানে থাকতে পেরেছে এবং অর্থনীতিতে ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।

শিল্প ও বিনিয়োগ খাতেও ব্যাংকটির অবদান উল্লেখযোগ্য। বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, এসএমই, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৮৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে গ্রামীণ উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে তাদের কার্যক্রম প্রশংসিত।

ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইন বলেন, গ্রাহকের আস্থা ও সেবার মানই ইসলামী ব্যাংকের মূল শক্তি। আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং গ্রাহকসেবায় কর্মীরা সর্বদা নিবেদিত।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়েও বড় পরিবর্তনের পথে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের মোবাইল অ্যাপ ‘সেলফিন’কে পূর্ণাঙ্গ ফিনটেক প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ লেনদেন শাখাবিহীন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, ভবিষ্যতে শরিয়াহভিত্তিক বন্ড বা সুকুকের মাধ্যমে বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বেসরকারি বিনিয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইসলামী ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আসতে পারে।

সার্বিকভাবে, আমানত সুরক্ষা, রেমিট্যান্স প্রবাহ, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!