ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
ঢাকা

menu

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিল করা হবে: অর্থমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ১১:২৮ পিএম

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিল করা হবে: অর্থমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬–এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, জনগণের সম্পদ লুটকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হবে।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে সরকার ১৮(ক) ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের বার্তা স্পষ্ট—যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

গত ১০ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হয়। তবে আইনটি সংসদে পাসের আগে এতে ১৮(ক) নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়। ওই ধারায় বলা হয়েছিল, কোনো ব্যাংক রেজল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যাঁরা ব্যাংকটির শেয়ারধারী ছিলেন, তাঁরা পরে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও এ ধরনের আবেদন গ্রহণ করতে পারবে।

আইনটিতে আরও এমন একটি বিধান ছিল, যার ফলে একীভূত হওয়া বা একীভূতকরণের জন্য তালিকাভুক্ত কোনো ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বা মালিকেরা তুলনামূলক সহজ শর্তে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেতেন। এ ক্ষেত্রে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া মূলধন সহায়তার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ করতে হতো। বাকি ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদে পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছিল।

ব্যাংক খাতে সংস্কার কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বিধান যুক্ত হওয়ায় শুরু থেকেই সমালোচনা দেখা দেয়। অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও বিভিন্ন অংশীজনের অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংকের সাবেক মালিকদের আবারও নিয়ন্ত্রণে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সংসদে বিরোধী দলগুলোর সদস্যরাও এ ধারা নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, এস আলম গ্রুপসহ বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই ধারাটি যুক্ত করা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর সরকার ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

একই বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী একীভূত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের পথনকশার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!