ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাকা

menu

সুপারনিউমেরারি সমন্বয়ের খেসারত নতুন ব্যাংকারদের

মোঃ দিদার হোসেন (সজীব)

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১১:২২ পিএম

সুপারনিউমেরারি সমন্বয়ের খেসারত নতুন ব্যাংকারদের

ছবি এআই

সরকারি চাকরিতে সুপারনিউমেরারি বা অতিরিক্ত পদ সাধারণত বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে সৃষ্টি করা হয়। পদোন্নতির সুযোগ তৈরি করতে এমন পদ ব্যবহারের নজির থাকলেও সেটিকে স্থায়ী জনবল কাঠামোর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে অতীতে দেওয়া এমন পদোন্নতি সমন্বয়ের নামে বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদোন্নতি আটকে যাওয়ায় নতুন করে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশ্ন, অতীতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নেওয়া বিশেষ ব্যবস্থার প্রশাসনিক সমন্বয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদোন্নতি কেন বন্ধ থাকবে? বিশেষ ব্যবস্থায় যারা পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের পদ ও গ্রেডের হিসাব সমন্বয়ের দায় বর্তমান কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ারে কেন পড়বে—এ প্রশ্নেরও সুরাহা চান তারা।

২০২২ সালের নির্দেশনার পরও পদোন্নতি

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২০২২ সালের ২১ নভেম্বরের নির্দেশনায় সুপারনিউমেরারি পদে পদোন্নতির সুযোগ না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে। তবে ওই নির্দেশনার পরও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে সুপারনিউমেরারি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে মোট ৭ হাজার ২১৫টি সুপারনিউমেরারি পদোন্নতির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে যে ব্যবস্থাকে সীমিত করার কথা বলা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেটিই ব্যাংকগুলোর পদোন্নতি কাঠামোয় জটিলতা তৈরি করেছে বলে কর্মকর্তাদের অভিযোগ।

এখন অতীতে দেওয়া এসব পদোন্নতি কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সেই প্রশ্নের প্রভাব পড়ছে বর্তমান কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদোন্নতিতে।

২০২৫ সালের নির্দেশনার পর জটিলতা আরও বাড়ে

২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একটি নির্দেশনার পর বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। তাদের অভিযোগ, পূর্বে দেওয়া সুপারনিউমেরারি পদোন্নতিগুলো সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর নিয়মিত পদোন্নতি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ফলে বহু কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। এতে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরে অসন্তোষও বাড়ছে।

কর্মকর্তাদের প্রশ্ন, এক ব্যাচের জন্য নেওয়া বিশেষ ব্যবস্থার প্রশাসনিক জটিলতার দায় পরবর্তী ব্যাচের কর্মকর্তাদের বহন করতে হবে কেন?

তাদের মতে, অতীতের পদোন্নতি কীভাবে বৈধতা, সমন্বয় বা প্রশাসনিক নিষ্পত্তির আওতায় আসবে—সেটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমানে যোগ্য কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদোন্নতি আটকে রাখা হলে সেটি পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সুপারনিউমেরারি পদের শেষ পরিণতি কী?

সংশ্লিষ্টদের মতে, সুপারনিউমেরারি পদ মূলত সাময়িক ব্যবস্থার অংশ। কোনো কর্মকর্তা পরবর্তী সময়ে নিয়মিত পদে পদোন্নতি পেলে তার আগের পদ শূন্য হওয়ার কথা। একইভাবে অবসর, মৃত্যু, পদত্যাগ, অপসারণ বা অন্য কোনো কারণে চাকরির অবসান হলেও সংশ্লিষ্ট পদটি শূন্য হওয়ার স্বাভাবিক নিয়ম রয়েছে।

কোনো প্রতিষ্ঠানে বাস্তবেই অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন দেখা দিলে পরবর্তী সময়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নতুন পদ সৃষ্টি কিংবা অর্গানোগ্রাম সংশোধনের সুযোগও রয়েছে।

তাহলে সাময়িক প্রয়োজনে সৃষ্টি করা অতিরিক্ত পদকে পরবর্তী সময়ে নিয়মিত পদের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা হবে কেন—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

ব্যাংকের ক্ষেত্রেই কেন সমন্বয়ের চাপ?

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জনবল কাঠামো ও পদোন্নতি ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিলতার মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে অতীতের সুপারনিউমেরারি পদোন্নতির হিসাব যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, পুরোনো সুপারনিউমেরারি পদগুলোর হিসাব সমন্বয় করতে গিয়ে যদি নিয়মিত পদের সংখ্যা কমে যায়, তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পরবর্তী কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ওপর।

তাই অতীতের পদোন্নতিগুলোর প্রশাসনিক নিষ্পত্তি একদিকে রেখে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রকৃত জনবল চাহিদা নতুন করে যাচাই করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে।

কোনো ব্যাংকে যদি বাস্তবেই অতিরিক্ত কর্মকর্তার প্রয়োজন থাকে, তাহলে সাময়িক পদকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম পুনর্নির্ধারণ করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ মোতাহের হোসেন বলেন " বাংলাদেশের সব সরকারি চাকরিতে প্রতিনিয়ত সুপার নিউমেরারি পদোন্নতি দেয়া হয়,কিন্ত সেখানে সমন্বয়ের  নামে নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ রাখা হয় না, সেখানে সুপারনিউমেরারি পদ বিলুপ্ত হয়ে যায় শুধু ব্যাংকিং খাতে এই ধরনের নির্দেশনা ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য অন্যায় ও বৈষম্যমূলক। এক দেশে দুই নীতি কাম্য নয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সমন্বয়ের নির্দেশনা বাতিলের মাধ্যমে সমতা নিশ্চিত করা জরুরি।

আওয়াজ নিউজ

banner
Link copied!